হাসপাতালে স্ত্রী রত্না এবং সন্তানদের দেখতে চান না শোভন! এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে আইনি চিঠি আইনজীবীর

হাসপাতালে স্ত্রী রত্না এবং সন্তানদের দেখতে চান না শোভন! এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে আইনি চিঠি আইনজীবীর
হাসপাতালে স্ত্রী রত্না এবং সন্তানদের দেখতে চান না শোভন! এসএসকেএম কর্তৃপক্ষকে আইনি চিঠি আইনজীবীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দাম্পত্য সম্পর্কে ভাঙন ধরেছে অনেকদিন আগেই। আদালতে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তাও স্বামীর দুঃসময়ে কোনও কিছু না ভেবে, ছুটে গিয়েছিলেন স্ত্রী, পাশে দাঁড়াবার বার্তা নিয়ে। কিন্তু এবারেও স্ত্রীকে ফেরালেন স্বামী।

হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, কথা হচ্ছে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং রত্না চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে। শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নারদাকাণ্ডে গ্রেফতার করার পরই তাঁর জন্য আইনজীবী সঙ্গে নিয়ে স্ত্রী রত্না ছুটে গিয়েছিলেন নিজাম প্যালেসে। কিন্তু এই সময়ও স্ত্রীকে চাইছেন না শোভন। শুধু স্ত্রী নয়, ছেলে ঋষি এবং মেয়ে সুহানিকেও চাইছেন না। আর তাই স্ত্রী এবং সন্তানদের এসএসকেএমে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে, হাসপাতাল সুপারকে চিঠি লিখলেন শোভনের আইনজীবী। এই চিঠি পাওয়ার পর হাসপাতালের সুপার পদক্ষেপও করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রত্নার দূরত্ব এবং শোভনের সঙ্গে বৈশাখীর ‘বন্ধুত্ব’ এই বিষয় গত তিনবছর ধরে চর্চায় রয়েছে। বারবার খবরের শিরনামে উঠেছে তাঁদের সম্পর্ক। এই সম্পর্কের জটিলতা নতুন মাত্রা পেয়েছে সোমবার নারদা মামলায় শোভনের গ্রেফতারির পর। আইনজীবী নিয়ে সোজা নিজাম প্যালেসে গিয়ে রত্না চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘এখনও আমরা স্বামী-স্ত্রী। বিপদের দিনে শোভনবাবুর পাশে দাঁড়ানোই আমার কর্তব্য।’ নিজাম প্যালেসে মা-এর সঙ্গে ছিলেন ছেলে ঋষিও।

গ্রেফতারির পর, মঙ্গলবার ভোররাতে সংশোধানাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন শোভন। শ্বাসকষ্টের সমস্যা হওয়ায়, তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম-এর উডবার্ন ওয়ার্ডে। উডবার্ন ওয়ার্ডের ১০৬ নম্বর ঘরে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র। স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় সঙ্গীদের নিয়ে হাসপাতালে ঢুকে কোনও অশান্তি পাকাতে পারেন, এই আশঙ্কায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী সুপারকে চিঠি লিখেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সুপারকে দেওয়া শোভনের আইনজীবীর চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, রত্নাকে যেন শোভনের কাছে যেতে না দেওয়া হয়। দেখা করতে হলে, লাগবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অনুমতি। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, শোভন-রত্নার বিচ্ছেদ মামলা চলছে। রত্না এবং তাঁর সঙ্গীরা হাসপাতালে ঢুকে অশান্তি তৈরি করতে পারেন বলে শোভন আশঙ্কা করছেন। এই কারণেই শোভনের ছেলে সপ্তর্ষি এবং মেয়ে সুহানিকেও যেন ঢুকতে না দেওয়া হয়, এমনটাই সুপারকে অনুরোধ করেছেন শোভনের আইনজীবী।

চিঠিতে লেখা হয়েছে, শোভন চট্টোপাধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে ভর্তি। তাঁর উদ্বেগের সমস্যাও রয়েছে, রয়েছে ডায়াবিটিস। সেক্ষেত্রে শোভনের ভয়, রত্না হাসপাতালে গেলে সমস্যা তৈরি হতে পারে, উদ্বিগ্ন হতে পারেন শোভন। এই আশঙ্কা থেকেই রত্নার আসায় শোভনের আপত্তি রয়েছে। তাই এই চিঠি।

শোভনের আইনজীবীর চিঠি পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নিয়েছেন হাসপাতাল সুপার। নোট দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি ও পুলিস আউটপোস্টে। উল্লেখ্য, একমাত্র নারদা মামলায় গ্রেফতার হওয়া শোভন চট্টোপাধ্যায় আগেই তৃণমূল ছেড়েছেন, আবার এই মুহূর্তে বিজেপিতেও নেই। তবে, তাঁর এই দুঃসময়ে পাশে পেয়েছিলেন স্ত্রী এবং বান্ধবী উভয়কেই। তবে, শোভনের করা এই পদক্ষেপে এবার এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, তিনি কোনোভাবেই আর তাঁর পুরনো পরিবার অর্থাৎ স্ত্রী রত্না, ছেলে ঋষি এবং মেয়ে সুহানির কাছে ফিরতে আগ্রহী নন। তাই এই দুঃসময়ে তাঁরা পাশে থাকার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এসে হাত বাড়াতে চাইলেও, তিনি তাঁদের হাত ধরতে রাজি নন। এমনিতেই নারদা মামলা নিয়ে রাজ্য- রাজনীতি ফের উত্তাল। তার মধ্যেই শোভন- রত্নার সম্পর্কের এই টানাপড়েন নয়া মাত্রা যোগ করল। কলকাতার প্রাক্তন মেয়রের এই পদক্ষেপ ফের একবার নতুন করে যে বিতর্কের জন্ম দেবে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই।