শুভ জন্মদিন কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য! জন্মদিনে রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য…

শুভ জন্মদিন কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য! জন্মদিনে রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য... / Image Source- Screengrab from Facebook Video Post By @SurjyaKMishra
শুভ জন্মদিন কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য! জন্মদিনে রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য... / Image Source- Screengrab from Facebook Video Post By @SurjyaKMishra

শেষবার তাঁকে দলের কর্মসূচীতে দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশে। চিকিৎসকদের বারণ অমান্য করেই একপ্রকার জোর করেই গিয়ে পৌঁছেছিলেন সেখানে। তবে গাড়ি থেকে নামতে পারেননি। নাকে অক্সিজেন নল লাগিয়ে গাড়ির ভিতরেই বসে ছিলেন। তবে তাতে কি! কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এসেছেন শুনে উৎসাহিত হয়ে উঠেছিলেন ব্রিগেডে উপস্থিত সকল কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁকে একঝলক দেখার জন্য ভীড়ও বাড়ান।

সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আজ জন্মদিন। দলের বহু কর্মী আজও মনে করেন, ফের একটিবার যদি তিনি এসে দাঁড়ান রাজনীতির দরবারে। দলের খোল-নলচেই বদলে যাবে আবার। তাঁকে যে মানুষ আজও চান…

জন্ম ১৯৪৪ সালের পয়লা মার্চ কলকাতাতেই। সম্পর্কে বিখ্যাত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন তাঁর কাকা। ছেলেবেলায় শৈলেন্দ্র সরকার বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে গ্রাজুয়েট। এরপরই রাজনীতির মঞ্চে আগমন তাঁর। দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক জীবনে সামলেছেন বহু ঝড়-ঝাপটা। তবু দমে যাননি তিনি। বারবার ফিনিক্সের মতো ফিরে এসেছেন মানুষের দরবারে।

জ্যোতি বসুর মন্ত্রিসভায় সামলেছেন তথ্য, স্বরাষ্ট্রের মতো মন্ত্রকের দায়িত্ব। এরপর ২০০০-২০১১ পর্যন্ত তিনিই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন তিনি। বাম কর্মী-সমর্থকদের বাইরেও বুদ্ধবাবুর জনপ্রিয়তার আঁচ পেলেন আমজনতাও। তবে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্ব থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। তার জেরেই হারাতে হল মুখ্যমন্ত্রীর পদও।

আপাতত দীর্ঘকাল রাজনৈতিক ময়দান থেকে তিনি দূরে। তবে মানুষের মনে তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকুও কম হয়নি। এর মধ্যেই লিখে ফেলেছেন একটি বইও। তাঁর ‘স্বর্গের নিচে মহাবিশৃঙ্খলা’ বইতে তিনি সমালোচনা করেছেন চিনের নীতির। তবে এর মাঝেই পিছু ছাড়েনি শারীরিক অসুস্থতা। ২০১০ সাল থেকেই সিওপিডি-র সমস্যার জন্য বিমানে উঠতে পারেন না। এই কারণে দলের পলিটব্যুরো ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য থাকার সময়ে রাজ্যের বাইরে বৈঠকে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর আগে হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন। তবে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন।

তবে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ফের অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন বুদ্ধদেব। তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল সে ছবি। তখন তামাম সোশ্যাল মিডিয়া ভরে উঠেছিল তাঁর আরোগ্য কামনায়। গতকাল ব্রিগেড সভাতে ইচ্ছে থাকলেও আসা সম্ভব হয়নি। তবে বাড়ি থেকেই কমরেডদের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মঞ্চে তিনি প্রায়ই বলতেন লড়াই করার কথা। এখন নিজের শরীরের সঙ্গেই লড়াই করছেন বুদ্ধদেব। সেই লড়াই জিতে তিনি ফের আমজনতার সামনে ফিরে আসুন, এমন কামনাতেই বুক বেঁধে রয়েছেন কতশত কর্মী সমর্থক। তাঁর জন্মদিনে এমন কামনা রইল আমাদের তরফেও…

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.