রোগীর তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে গান্ধীজি! একসময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

রোগীর তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে গান্ধীজি! একসময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়
রোগীর তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে গান্ধীজি! একসময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

আজ ১ জুলাই, জাতীয় চিকিৎসক দিবস। বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের সম্মানে, ১৯৯১ সালে এই দিনটিকে প্রথমবারের মতো চিকিৎসক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডাঃ বিধান রায়ের অবদান নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই! তিনি মরণাপন্নকে নতুন জীবন দিতে পারতেন। রোগীর মুখ দেখেই রোগ নির্ণয় করতে পারতেন তিনি। তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল সহজ-সরল। ডাক্তারি টেকনিক্যাল ওষুধের তুলনায় মন জয় করতেন বেশী। তাই তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে ছুটে ছুটে আসতেন সাধারণ মানুষ থেকে দেশের বহু বরেণ্য ব্যক্তিত্ব।

১৮৮২ সালের ১ জুলাই বিহারের পাটনাতে জন্মগ্রহন করেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়। পড়াশুনায় যথেষ্ট মেধাবী ছিলেন তিনি। ১৯১১ সালে ইংল্যান্ড থেকে এফ.আর.সি.এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কলকাতার ক্যাম্বেল মেডিক্যাল স্কুলে (বর্তমানে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ) শিক্ষকতা শুরু করেন। মানুষের চিকিৎসারও সূচনা তখনই। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট সদস্য, রয়্যাল সোসাইটি অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন ও আমেরিকান সোসাইটি অফ চেস্ট ফিজিশিয়ানের ফেলো হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি।

নিজের কর্মজীবনে চিকিৎসার মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছিলেন ডাঃ বিধান রায়। সেই তালিকায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছিলেন বহু বিখ্যাত ব্যক্তিও। মহাত্মা গান্ধী, মতিলাল নেহেরু, জওহরলাল নেহেরু, বল্লভভাই পটেল, ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিত্বদের চিকিৎসা করেছিলেন ডাঃ রায়। গান্ধীজির অনশন চলাকালীন তাঁর শয্যার পাশেও দেখা যেত বিধান রায়কে।

রোগীর তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে গান্ধীজি! একসময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়
রোগীর তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ থেকে গান্ধীজি! একসময় কলকাতায় ট্যাক্সিও চালিয়েছেন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

শোনা যায়, গান্ধীজি অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পছন্দ করতেন না। এদিকে বিধান রায় ছিলেন অ্যালোপেথিক চিকিৎসক। একবার দীর্ঘ অনশনের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন গান্ধীজি। বিধান রায় তখন তাঁর চিকিৎসার জন্য যান। কিন্ত গান্ধীজি কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে বিধান রায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলার পর তাঁর চিকিৎসা নিতে রাজি হন গান্ধীজি। এরপর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর থেকেই তিনি হয়ে ওঠেন গান্ধীজির প্রিয়পাত্র। তাঁর উদ্দেশ্যে গান্ধীজি বরাবর বলতেন, ‘বিধান, দ্য সেফ্টি হ্যান্ড অব ইন্ডিয়া।’

তবে এ কথা জানেন কি যে এই মহান চিকিৎসকের পেশাগত কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ট্যাক্সি চালিয়ে? প্রথম জীবনে রোগী দেখার পাশাপাশি কলকাতা শহরে পার্ট টাইম ট্যাক্সি চালাতেন বিধান রায়। সে সময় কল্যাণী নামে এক তরুনীর প্রেমে পড়েন তরুণ চিকিৎসক। তিনি ছিলেন তৎকালীন সময়ের বিখ্যাত চিকিৎসক ডা. নীলরতন সরকারের কন্যা৷ যদিও কল্যাণীর সঙ্গে বিধান রায়ের বিয়ে হয়নি। তাই আজীবন চিরকুমারই রয়ে গেলেন তিনি। পরবর্তীতে প্রেয়সীর নামে ‘কল্যাণী’ শহর গড়ে তোলেন তিনি।

চিকিৎসকের পাশাপাশি তিনি ছিলেন দুঁদে রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী। এরপর একাধিকবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। তাঁর আমলেই গড়ে ওঠে দুর্গাপুর, সল্টলেক, বিধাননগর, অশোকনগর-কল্যাণগড় ও হাবড়া, কল্যাণীর মতো শহর। সে কারণে তাঁকে ‘বাংলার রূপকার’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। আশ্চর্যজনকভাবে এই মহান ব্যক্তিত্বের জন্ম ও মৃত্যুদিবস একই দিনে, ১ জুলাই। ১৮৮২ সালের ১ জুলাই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ১৯৬২ সালে একই তারিখে অর্থাৎ ১ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। আজকের দিনে এই মহান ব্যক্তিত্বের স্বরণে তাঁর প্রতি রইল শ্রদ্ধার্ঘ্য…