আজ থেকে খুললো স্কুল, সরস্বতী প্রতিমা বিক্রির আশায় মুখে হাসি ফুটল মৃৎশিল্পীদেরও

আজ থেকে খুললো স্কুল, সরস্বতী প্রতিমা বিক্রির আশায় মুখে হাসি ফুটল মৃৎশিল্পীদেরও / নিজস্ব চিত্র
আজ থেকে খুললো স্কুল, সরস্বতী প্রতিমা বিক্রির আশায় মুখে হাসি ফুটল মৃৎশিল্পীদেরও / নিজস্ব চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ আজ, শুক্রবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সমস্ত বিদ্যালয় খুলে গিয়েছে। আর তাতেই মুখে হাসি ফুটেছে রাজ্যের মৃৎশিল্পীদের। কারণটা আর কিছুই নাহ! ক’দিন পরেই যে সরস্বতী পুজো। আর স্কুল চালু হলেই যে পুজোর তোড়জোড়ও শুরু হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে শুরু হবে প্রতিমার বায়নাও। প্রতিমার যোগান দিতে তখন একমাত্র ভরসা যে মৃৎশিল্পীরাই। ফলে, স্কুল খুলতেই নিজেদের দিন গুজরানের পথ কিছুটা সহজ হল বলে মনে করছেন তাঁরা।

করোনা আবহে গত বছরের পুরোটাই প্রায় কেটেছে লকডাউনে। সেই সঙ্গে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো হাজির হয়েছিল আমফান! গোটা রাজ্য প্রায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য জীবিকার মানুষের সঙ্গেই বিপদে পড়েছিলেন সারা রাজ্যের মৃৎশিল্পীরাও। তাঁদের জীবন হয়ে উঠেছিল দূর্বিষহ! আশা করেছিলেন দুর্গা পুজোয় হয়তো কিছুটা হাল ফিরবে। কিন্তু শারদীয়া পুজোর সময়ও কাটেনি করোনার আতঙ্ক৷ ফলে, বেশ কম দামেই রেডিমেড প্রতিমা বিক্রি করতে হয়েছে তাঁদের। যার রেশ চলে কালী পুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজোতেও।

তাই আশায় বুক বেঁধে সরস্বতী পুজোর দিকেই তাকিয়ে ছিলেন প্রতিমা শিল্পীরা। তবে এতদিন বন্ধ ছিল স্কুল। ফলে বিদ্যালয়গুলিতে সরস্বতী পুজো হবে কি না, সে বিষয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল৷ অবশেষে আশার আলো দেখলেন শিল্পীরা। আজ, রাজ্যের সমস্ত স্কুলই খুলে গিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, সরস্বতী পুজো হতেও আর কোনও বাধা থাকবে না। যদিও এখনও করোনার প্রকোপ চিরতরে মুছে যায়নি৷ তবু এর মধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা। মাটির কাজের ওপর পড়ছে তুলির টান।

ইতিমধ্যেই নদীয়ার হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচন্ডী অঞ্চলের কুমোরপাড়ায় জোর কদমে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। মৃন্ময়ী রূপকে চিন্ময়ী করে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শিল্পীরাও। সেরকমই একজন বুলবুলচন্ডী হাসপাতাল মোড়ের কারখানা শিল্পী উত্তমকুমার পালেল। এ বছর প্রায় ৯৫টি প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। এরই মধ্যে কিছুটা বিক্রিও হয়েছে। যদিও কোনও স্কুল থেকে এখনও যোগাযোগ করা হয়নি। উত্তম বাবু জানান, ‘‌আজ থেকে স্কুলগুলো খুলল। তবে এখনও স্কুল থেকে কোনও অর্ডার আসেনি। আমার ধারণা, কোনও শিল্পীর কাছেই হয়তো আসেনি। এখনও ৪৫টি প্রতিমা বিক্রি হওয়া বাকি। হাতে ৪ দিন রয়েছে। দেখা যাক, হয়তো বিক্রি হয়ে যেতে পারে।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.