গানের শিক্ষক থেকে হয়ে উঠলেন ‘মহানায়ক’! চার দশক পেরিয়েও বাঙালি আচ্ছন্ন উত্তম কুমারেই

গানের শিক্ষক থেকে হয়ে উঠলেন 'মহানায়ক'! চার দশক পেরিয়েও বাঙালি আচ্ছন্ন উত্তম কুমারেই
গানের শিক্ষক থেকে হয়ে উঠলেন 'মহানায়ক'! চার দশক পেরিয়েও বাঙালি আচ্ছন্ন উত্তম কুমারেই

৩ সেপ্টেম্বর, ১৯২৬। বাংলার বুকে জন্ম নিলেন এক তারকা। উঁহু, বলা ভালো ভবিষ্যতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রথম জীবন কেটেছিল প্রবল অনটনে। আর সেই কারণে পড়াশোনা শেষ করার আগেই উপার্জনের রাস্তায় পা বাড়াতে হয়েছিল। গানের শিক্ষক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেখানেই তাঁর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল স্ত্রী গৌরী দেবীর সঙ্গে৷ তখনও তিনি বাঙালির মহানায়ক হয়ে ওঠেননি…

গিরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের একটিমাত্র ঘরে থাকতেন উত্তম কুমারের পরিবার৷ বাবার সামান দেখে পড়াশোনার পাশাপাশি গানের শিক্ষকতা শুরু করলেন উত্তম। অবশ্য তখনও তিনি বাঙালির প্রিয় ‘উত্তম কুমার’ হয়ে ওঠেননি। তিনি তখন অরুণ চট্টোপাধ্যায়। তখনই প্রস্তাব এল গাঙ্গুলী বাড়ির মেয়ে গৌরী দেবীকে গান শেখাতে হবে। তা করতে গিয়েই কাছাকাছি এলেন উত্তম-গৌরী। পরবর্তীতে দু’জনের বিয়েও হয়।

অবশ্য ছেলেবেলা থেকেই ছিল অভিনয়ের নেশা৷ সে সুযোগ মিলল ১৯৪৭ সালে। হিন্দি চলচ্চিত্র ‘মায়াডোর’-এর মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখলেন অরুণ চট্টোপাধ্যায়। তবে তা ছিল এক্সট্রার রোল। কিন্তু সে ছবি মুক্তি পেল না। ‘৪৮ সাল ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতেও সুযোগ পান তিনি। এরপর একে একে ‘কামনা’, ‘মর্যাদা’ ও ‘ওরে যাত্রী’। তিনটি ছবিই সুপার ফ্লপ। অভিনেতা হিসেবে অরুণও দর্শক মনে ছাপ ফেলতে পারেননি।

গানের শিক্ষক থেকে হয়ে উঠলেন 'মহানায়ক'! চার দশক পেরিয়েও বাঙালি আচ্ছন্ন উত্তম কুমারেই
গানের শিক্ষক থেকে হয়ে উঠলেন ‘মহানায়ক’! চার দশক পেরিয়েও বাঙালি আচ্ছন্ন উত্তম কুমারেই

এরপর ‘সহযাত্রী’ ছবি করার সময় পাহাড়ি সান্যালের পরামর্শে অরুণ চট্টোপাধ্যায় নাম পাল্টে হয়ে গেলেন উত্তম কুমার। তবে সে ছবিতেও সাফল্য ধরা দিল না। পরের ছবি ‘সঞ্জীবনী’ও ফ্লপ। এরপর ‘বসু পরিবার’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়লেন উত্তম। এর ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবি দিয়ে যাত্রা শুরু বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক জুটি উত্তম-সুচিত্রার।

১৯৫৪ সালে মুক্তি পেল উত্তম-সুচিত্রা অভিনীত ৭টি ছবি। সে বছর ‘ওরা থাকে ওধারে’ ছবির মাধ্যমে উত্তম-সুচিত্রা জুটি পাকাপাকিভাবে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নেয়। এরপরের ২২ বছরে উত্তম-সুচিত্রা জুটির সর্বমোট ৩১টি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। আর নিজের অভিনয় জীবনে ‘দৃষ্টিদান’ ছবি থেকে শুরু করে শেষের ‘ওগো বধূ সুন্দরী’ অবধি ৩৩ বছরে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে প্রায় ২৫০ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন উত্তম। কাজ করেছেন বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও। জিতেছিলেন জাতীয় পুরস্কারও। বাঙালির কাছে তাঁর পরিচয় হয়ে উঠেছিল একমেবাদ্বিতীয়ম ‘মহানায়ক’ হিসাবে।

শেষ ছবি ‘ওগো বধু সুন্দরী’ ছবির শ্যুটিং চলাকালীনই স্ট্রোক হয় মহানায়কের। বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও মহানায়ককে বাঁচানো যায়নি। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৩ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২১ সালের ২৪ জুলাই তাঁর মৃত্যুর ৪১ বছর পূর্ণ হল। মৃত্যুর চার দশক কেটে গেলেও বাঙালি আজও একইরকম ভাবে মহানায়কেই আচ্ছন্ন!