ব্রিটিশ অফিসারকে হত্যা! প্রাণ বাঁচাতে সঙ্গী রাজগুরুকে নিয়ে সাহেবের অভিনয় করে পালালেন অপরাধী ভগৎ সিং

ব্রিটিশ অফিসারকে হত্যা! প্রাণ বাঁচাতে সঙ্গী রাজগুরুকে নিয়ে সাহেবের অভিনয় করে পালালেন অপরাধী ভগৎ সিং
ব্রিটিশ অফিসারকে হত্যা! প্রাণ বাঁচাতে সঙ্গী রাজগুরুকে নিয়ে সাহেবের অভিনয় করে পালালেন অপরাধী ভগৎ সিং

১৯৩১ সালের ২৩ মার্চ, আজকের দিনেই, লাহোরের শাদমান চকে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন তিন বীর বিপ্লবী, ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং শুকদেব। ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন স্যান্ডার্সকে ১৯২৮ সালে হত্যার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু স্যান্ডার্সকে হত্যার পরমুহূর্তেই কিন্তু ধরা পড়েননি তাঁরা। বরং ছদ্মবেশে পালিয়ে এসেছিলেন লাহোর ছেড়ে। কিন্তু অতজন পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেদিন কীভাবে এই অসাধ্য সাধন করেছিলেন বিপ্লবী? আজ জেনে নেব সেই কাহিনীই…

সময়টা তখন ১৯২৮ সাল। বিপ্লবের অগ্নিযুগ! স্বাধীনতা সংগ্রামের আগুনে নিজেকে পুড়িয়ে দিতে প্রস্তুত তখন ভারতের বহু বীর সন্তান। চালু হয়েছে সাইমন কমিশন। তারই প্রতিবাদে লাহোরের তখন বেরিয়েছে মিছিল। নেতৃত্ব দিলেন লালা লাজপত রায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না! কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের অমানুষিক অত্যাচার এবং লাঠির আঘাতে প্রাণ হারালেন তিনি। তাঁর এই মৃত্যু কিছুতেই মানতে পারলেন না তাঁর-ই আরেক সঙ্গী ভগৎ সিং। প্রতিবাদে ফেটে পড়লেন তিনি। মনস্থির করলেন তিনিও নেবেন প্রতিশোধ।

যেমন ভাবা আর তেমনই কাজ! প্রতিশোধ নিতে ভগৎ হত্যা করলেন ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন স্যান্ডার্সকে। সঙ্গী ছিলেন রাজগুরু এবং শুকদেবও। তারপরই চাউর হয়ে গেল তা। পুলিশের কাছেও পৌঁছালো খবর। সারা লাহোরে জুড়ে তখন পুলিশের কড়া নজরদাড়ি৷ ভগৎ সিংকে খুঁজতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তল্লাশি চালাতে লাগল ব্রিটিশবাহিনী।

এদিকে ভগৎ সিং পড়লেন মহা বিপদে। তাঁকে যে এবার পালাতেই হবে। কিন্তু ধুরন্ধর পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়া তো আর এতো সহজ নয়! তবে উপায়? হ্যাঁ, তাও বেরোলো বটে! তিনি কামিয়ে ফেললেন গালের দাড়ি, মাথার পাগড়িও খুলে ফেললেন। স্যুট-কোট আর বুটে কেতাদুরস্ত সেজে পালানোর ফন্দী আঁটলেন। তাঁকে সঙ্গ দিলেন বিপ্লবী রাজগুরুও। তিনি সাজলেন ভগৎ সিংয়ের ভৃত্য। অন্যদিকে, আরেক বিপ্লবী ভগবতী চরণের স্ত্রী, দূর্গা দেবী সাজলেন ভগতের স্ত্রী। তিন বছরের ছেলেকে কোলে নিয়েই দুই বিপ্লবীর সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্তে পিছপা হলেন না এতটুকুও।

অবশেষে এল সেই দিন। লাহোর স্টেশনে সেদিন ভর্তি পুলিশের সামনে দিয়ে হেঁটে বেরিয়ে গেলেন স্যুট-বুটে সজ্জিত ভগৎ সিং এবং দুই সঙ্গী। চেপে বসলেন কানপুরের ট্রেনে। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ঠিক এভাবেই পালিয়ে গেলেন তাঁরা। তবে শেষরক্ষা হয়নি। জন পি সন্ডার্সকে হত্যার অপরাধে ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷ হত্যার তিনবছর পর ফাঁসি হয় তাঁদের।

এরপর আজকের দিনেই, ফাঁসিতে প্রাণ হারান ভারতের সেই তিন বীর বিপ্লবী। নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করেই এভাবেই দেশের উদ্দেশ্যে নিজেদের উজার করে দিয়েছিলেন তাঁরা। তাই তো তাঁদের উদ্দেশ্য আজও এ দেশে পালিত হয় ‘শহীদ দিবস’-এর দিনটি। ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসের পাতায় তাঁদের নাম এভাবেই স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরটাকাল।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.