আজ চাঁচড় বা ন্যাড়াপোড়া! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? জেনে নিন হাল-হকিকত

আজ চাঁচড় বা ন্যাড়াপোড়া! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? জেনে নিন হাল-হকিকত / নিজস্ব চিত্র
আজ চাঁচড় বা ন্যাড়াপোড়া! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? জেনে নিন হাল-হকিকত / নিজস্ব চিত্র

“আজ আমাদের ন্যাড়াপোড়া কাল আমাদের দোল,
পূর্ণিমাতে চাঁদ উঠেছে বল হরি বোল।”
রাত পোহালেই বসন্ত উৎসব। বাঙালির কাছে যা দোলযাত্রা বা হোরি খেলা। আবীরের রঙে মেতে ওঠার দিন। বসন্তকে স্বাগত জানানোর দিন। তবে দোলের আগের সন্ধ্যায় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আজও পালিত হয় ন্যাড়া পোড়া বা চাঁচর উৎসব। ঋতুচক্রের নিয়মে বসন্তের শুরুতেই শীতের শুকনো পাতা ঝরে যেতে থাকে। ঝরে যাওয়া শুকনো লতা-পাতা ও জঞ্জাল একত্রে পুড়িয়ে নতুনের সূচনাই হল চাঁচরের মূল লক্ষ্য। তাই শুকনো খড়কুটো, পাতা; যাকে এক কথায় বলে ‘বুড়ির ঘর’; তা জ্বালিয়েই এই উৎসব পালিত হয়।

ভারতের বিভিন্ন হিন্দী ভাষী রাজ্যে বহু বছর ধরেই চাঁচরে হোলিকার কুশ পুতুল পোড়ানোর রেওয়াজ চলে আসছে। কোনো কোনো পন্ডিতের মতে, হোলিকা দহন উৎসবের সূচনা হয়েছিল পাঞ্জাবের মুলতান অঞ্চলের প্রহ্লাদপুরী মন্দিরে। এমনকি আদিম শবর জাতির জীবনচর্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল চাঁচর৷ কিন্তু এই প্রথার শুরু হয়েছিল কীভাবে সেই কাহিনী কি জানা রয়েছে কারোর? এর পৌরাণিক উৎস কিন্তু রয়েছে স্কন্ধ পুরাণে।

প্রাচীনকালে ঋষি কাশ্যপ ও দিতির দুই পুত্র হিরণ্যাক্ষ ও হিরণ্যকশিপুর বেশ দুর্নাম ছিল। তাঁদের একমাত্র বোন হোলিকাও তাঁর ভাইদের চেয়ে কিছু কম ছিলেন না। হিরণ্যকশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন বিষ্ণু নারায়ণ ভক্ত। সেই অপরাধে তাকে আগুনে পুড়িয়ে মারবার ফন্দি আঁটেন হোলিকা। যদিও সে চেষ্টা বিফলে যায়। আগুনের অপপ্রয়োগের ফলে হোলিকা নিজেই সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যান। সেই দিন থেকেই অশুভ শক্তির বিনাশ হিসেবে হোলিকা দহন বা চাঁচর বা ন্যাড়া পোড়া পালিত হতে থাকে।

তবে ইদানীংকালে ন্যাড়াপোড়ার এই রীতি খুব একটা লক্ষ্য করা যায় না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন দোলযাত্রার বিভিন্ন প্রথা৷ বদলে এসেছে রং-বেরঙের ‘হোলি পার্টি’। ফলে বাংলার প্রাচীন রীতি রেওয়াজগুলি আজকাল প্রায় বিলুপ্তির পথেই।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.