অভিনেতা নয় হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার! তারপর? জানুন রবি ঘোষের জীবনের অজানা কাহিনী

অভিনেতা নয় হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার! তারপর? জানুন রবি ঘোষের জীবনের অজানা কাহিনী
অভিনেতা নয় হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার! তারপর? জানুন রবি ঘোষের জীবনের অজানা কাহিনী

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের স্বর্ণ যুগের ইতিহাসে অন্যতম এক অধ্যায়ের শরিক ছিল কৌতুকাভিনেতা রবি ঘোষ। তিনি ছিলেন এমন এক অভিনেতা, যাঁর অনবদ্য অভিনয়ে মন্ত্রমুগ্ধ ছিল আট থেকে আশি। কখনও বাঘা কখনও আবার বিরিঞ্চি বাবার অ্যাসিন্ট্যান্ট আবার কখনও অরণ্যের দিনরাত্রির শেখর, অভিনয়ের ক্ষেত্রে বারবার নিজেকে ভেঙে গড়েছেন তিনি। তবে প্রথম জীবনে নাকি অভিনেতাই হতে চাননি এই কিংবদন্তি। বরং তিনি হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার৷

১৯৩১ সালের ২৪ নভেম্বর। কোচবিহারে মামার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন অভিনেতা রবি ঘোষ। আসল নাম রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দস্তিদার। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন তিনি। পড়াশোনার শুরু কোচবিহারেরই জেনকিন্স স্কুলে। পরে কলকাতার সাউথ সাবার্বান মেন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করে ভবানীপুর আশুতোষ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে আইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ওই কলেজেরই নৈশ বিভাগে বি কম নিয়ে ভর্তি হন রবি ঘোষ।

কলেজে থাকাকালীনই নিয়মিত শরীরচর্চার শুরু। কলেজের ব্যায়ামাগারেই তখন শরীরের পরিচর্চা৷ পরবর্তী কালে কোনও ব্যায়ামাগারে না গিয়ে নিয়মিত মর্নিং ওয়াক এবং বাড়িতেই ব্যায়াম করতেন তিনি। সেসময় তাঁর ইচ্ছা ছিল বডিবিল্ডার হওয়ার। তাঁর তখনকার শরীরের গঠন তাক লাগিয়ে দিত যে কোনও বড় বড় ব্যায়ামবীরদেরও।

অভিনেতা নয় হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার! তারপর? জানুন রবি ঘোষের জীবনের অজানা কাহিনী
অভিনেতা নয় হতে চেয়েছিলেন বডিবিল্ডার! তারপর? জানুন রবি ঘোষের জীবনের অজানা কাহিনী

যদিও অভিনয় ছিল রক্তে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই নাটক করা শুরু। এরপর ১৯৫৯ সালে ‘আহ্বান’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ এই অভিনেতার। তারপর তপন সিনহা পরিচালিত ‘গল্প হলেও সত্যি’ সিনেমায় ধনঞ্জয়ের চরিত্রের মধ্য দিয়ে সবার নজর কাড়েন তিনি। তারপর একের পর এক সিনেমায় কাজ করেছেন। তবে রবি ঘোষের অভিনয় জীবনের এক মাইল ফলক হয়ে থাকবে ১৯৬৮ সালের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা সত্যজিৎ রায় নির্মিত ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন ছবি’ বাঘার চরিত্রটি।

অভিযান (১৯৬২), অরণ্যের দিনরাত্রি (১৯৭০), হীরক রাজার দেশে (১৯৮০), গুপী বাঘা ফিরে এলো (১৯৯১), পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩) সহ বেশ কিছু বিখ্যাত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন রবি ঘোষ। তবে পর্দায় যতই মজাদার চরিত্রে অভিনয় করুন না কেন, বাস্তবে ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষ ছিলেন তিনি৷ প্রয়োজনের বাইরে একটি কথাও তিনি বলতেন না। সময় পেলেই রামকৃষ্ণ কথামৃত ও প্রবন্ধ-নাটকের নানা বই পড়ে সময় কাটাতেন। আর ভালোবাসতেন খেতে। যিনি খেতে খেতেও খুব ভালো কথা বলতে পারেন। প্রিয় খাবার ছিল লুচি আর পাঁঠার মাংস।

১৯৯৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, জীবনাবসান হয় রবি ঘোষের। তবে তাঁর প্রয়াণ হলেও জীবদ্দশায় যে ভালোবাসা, সম্মান, সমাদর এবং গুণের কদর তিনি পেয়েছিলেন, তা অটুট রয়েছে আজও। মৃত্যুর এত বছরও তিনি আজ সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। বাঙালির মনে তাঁর জনপ্রিয়তা আজও এতটুকু কমেনি। এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মদিবসে আজ রইল তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।