জীবনানন্দ এবং সেই অভিশপ্ত ট্রাম! আগুনে পুড়ে ছারখার হয় কবির ঘাতক ট্রামটিও

জীবনানন্দ এবং সেই অভিশপ্ত ট্রাম! আগুনে পুড়ে ছারখার হয় কবির ঘাতক ট্রামটিও / Image Source- Facebook Post By @timirbidary.jibanananda.das
জীবনানন্দ এবং সেই অভিশপ্ত ট্রাম! আগুনে পুড়ে ছারখার হয় কবির ঘাতক ট্রামটিও / Image Source- Facebook Post By @timirbidary.jibanananda.das

১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর। রাসবিহারী এভিনিউর রাস্তা পেরোচ্ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশ। অথচ মনে তাঁর গভীর চিন্তা। কিছুটা যেন অন্যমনস্কও। হঠাতই রাস্তার মাঝের ট্রাম লাইন পেরোনোর সময় কবির একদম কাছে এসে পড়ে ডাউন বালিগঞ্জ ট্রাম। তার আগে অবিরত ঘণ্টা বাজিয়ে কবিকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন চালক। সতর্কবাণী শুনিয়ে সাবধান করারও চেষ্টা করেছিলেন। তবু কিছুই কানে আসেনি কবির। অবশ্যম্ভাবীভাবে ট্রাম এসে এরপর ঢাক্কা মারে তাঁকে। ট্রাম চালক ব্রেক কষে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে যা ঘটার ঘটেই গিয়েছে…

ততক্ষণে কবির শরীর আটকে গিয়েছে ট্রামের ক্যাচারে। ক্যাচারের আঘাতে অচৈতন্য তাঁর শরীর। চারদিক ভেসে যাচ্ছে রক্তে। বুকে, হাতে, ডান চোখের কোণ তীব্র আঘাতে কেটে থেতলে গিয়েছে। পাঁজর এবং উরুর ক’টা হাড়ও ভেঙে চুরমার। টেনে হিঁচড়ে বের করার পর কবিকে নিয়ে যাওয়া হল শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। সেখানেই দীর্ঘ এক সপ্তাহ কঠিন যন্ত্রণায় কাতর হয়েছিলেন কবি। অবশেষে ২২ অক্টোবর থেমে গেল তাঁর নিশ্বাস। ‘সাতটি তারার তিমির’-এ হারিয়ে গেলেন কবি জীবনানন্দ দাশ।

‘‘ট্রামের লাইনের পথ ধরে হাঁটি: এখন গভীর রাত/কবেকার কোন্ সে জীবন যেন টিটকারি দিয়ে যায়…”- কবির লেখা ‘ফুটপাথ’ কবিতার মতো তাঁর আরও বহু লেখায় বারংবার উঠে এসেছিল শহরের ট্রামেদের কথা। ট্রামলাইন ঘিরে থাকা অন্ধকার যেন জীবন্ত হয়ে উঠত তাঁর লেখায়। সেই তাঁর-ই মৃত্যু হল শহরের এক ট্রামের ঢাক্কায়! এ কি সত্যি নিয়তি? নাকি কোনও পুরোনো অভিশাপ?

হয়তো নিয়তিই! কারণ, কবিকে ঢাক্কা মারার পর সেই অভিশপ্ত ট্রামটিরও ‘মৃত্যু’ ঘটে এক দূর্ঘটনাতেই। আগুন এসে লাগে ট্রামটির গায়ে। এরপর পুড়ে ছারখার হয়ে যায় সেই ঘাতক ট্রামটি। নিয়তির হাত থেকে রক্ষা পায়নি সেও।

তবে কবির মৃত্যুকে একেবারেই মেনে নিতে পারেননি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, কবি এবং সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য। “আমার মনে হয় জীবনানন্দ ঠিক ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যাননি। যদিও এই কথাটাই সর্বত্র বলা হয়ে থাকে, তথাপি আমার ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন”- লিখেছিলেন তিনি। সত্যিই কি কবি আত্মহত্যাই করেছিলেন? নাকি নিয়তির অমোঘ খেলাই কেড়েছিল কবির প্রাণ? সে উত্তর তো মেলেনি আজও। তবে কবি জীবনানন্দ দাশের জীবন-মৃত্যুর এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই থেকে গেল শহরের ট্রামলাইন এবং যান্ত্রিক ট্রামেদের রোজনামচাগুলি।

আরো পড়ুনঃ   ঋতুমতী অবস্থায় করেছিলেন সরস্বতী পুজো, এবার বিয়ের সম্প্রদানে ডাক পেলেন রায়গঞ্জের ঊষশী!