মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত দেওয়া হবে বিনামূল্যে রেশন

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত দেওয়া হবে বিনামূল্যে রেশন

আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে জানিয়েছেন যে এই করোনা অতিমারির লড়াইয়ের সময়ে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের ৮০ কোটি মানুষকে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে প্রতি মাসে ৫ কেজি করে চাল বা গম দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই রেশন ব্যবস্থা নিয়ে পাল্টা ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে ঘোষণা করেন যে আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্য রেশন দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন যে কেন্দ্রকে বলছি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে একশো শতাংশ রেশন দিতে হবে। সেই সঙ্গে দেশের ১৩০ কোটি মানুষও যাতে রেশন পান তারও ব্যবস্থা করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে।

এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ ওঁরা বিনামূল্যে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত রেশন দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা বিনামূল্যে আগামী জুন মাস পর্যন্ত রেশন দেব। ওনারা আজ বলছেন দেবেন, কাল হয়ত দেবেন না। কেন্দ্রের দেওয়া রেশন রাজ্যের ৬০ শতাংশ মানুষ পান, ৪০ শতাংশ মানুষ পান না। কেনো এই ডিসক্রিমিনেশন কেন! এটাকে একশো শতাংশ করতে হবে। এর পাশাপাশি দেশের ১৩০ কোটি মানুষেরও রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে”। এছাড়াও আজ মুখ্যমন্ত্রী আরো ঘোষণা করে বলেন যে, প্রাতঃভ্রমণের জন্য এই আনলকের সময় মানুষকে সকাল সাড়ে পাঁচটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্তে। এছাড়াও ৫০ জন পর্যন্ত মানুষ বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারবেন, আগে যা ছিল ২৫ জন। সতকারের কাজে যোগ দিতে পারবেন ২৫জন।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের ঘোষণার পর বিরোধীদের গলায় অন্য সুর। সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী মমতার এই ঘোষণার পর বলেন, ‘জানিনা কেন এসব বলছেন উনি। উনি তো আগামী বছর জুন মাস পর্যন্ত থাকবেন না। লকডাউনের সময় রাষ্ট্রকেই গরীব মানুষের খাবারের দায়িত্ব নিতে হবে এটাই আইন”। অন্যদিকে মঙ্গলবার রেশন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমানে চলা আর্থিক মন্দা কাটাতে নতুন কিছু ঘোষণা করবেন। মানুষ পেট্রোল-ডিজেলের নিয়মিত দাম বৃদ্ধিতে নাজেহাল, মাইনে পাচ্ছেন না বহু মানুষ। কিন্তু সেসব নিয়ে কোনো কথাই নেই প্রধানমন্ত্রীর মুখে”।

আরও পড়ুনঃ  ডাম্পিং ইয়ার্ড বন্ধ হওয়ায় আবর্জনার স্তূপে মুখ লজ্জা পাচ্ছে খড়গপুর শহর

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.