বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! ভোট বন্ধের দাবিতে, কমিশনের অফিসের সামনে পিপিই কিট পরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ

বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! ভোট বন্ধের দাবিতে, কমিশনের অফিসের সামনে পিপিই কিট পরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ
বাড়ছে করোনা সংক্রমণ! ভোট বন্ধের দাবিতে, কমিশনের অফিসের সামনে পিপিই কিট পরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ / নিজস্ব ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল অবস্থা বিভিন্ন রাজ্যের। প্রতিদিন ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দেশের মধ্যে বেশ কিছু রাজ্যে করোনা সংক্রমণের হার কেন্দ্রের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

এইসব রাজ্যের মধ্যে মহারাষ্ট্রের অবস্থা সবথেকে খারাপ। বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের অবস্থা খুবই ভয়ঙ্কর। এদিকে গতকালের থেকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একধাপে আরও অনেকটাই বেড়ে গেছে। পূর্ববর্তী লক্ষাধিকের রেকর্ড ভেঙে একলাফে তা অনেকটাই বেড়ে গেছে গত ২৪ ঘণ্টায়।

এদিকে রাজ্যেও ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যে চলা বিধানসভা নির্বাচন অবিলম্বে বন্ধ করা হোক, এই দাবিতে আজ কমিশনের অফিসের থেকে সামান্য কিছু দূরেই, পিপিই কিট পরে রাস্তায় শুয়ে প্রতিবাদ দেখানো হল।

একটি অরাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আজ এই অভিনব প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ৮ থেকে ১০ জন সামিল হন। এদের সকলের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী ৪ সপ্তাহ খুবই উদ্বেগজনক। এ রাজ্যেও ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। ৩ দিনের মধ্যে করোনার দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ২০০০ ছাড়িয়ে গেছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। সুস্থতার হারও তুলনামুলক কম।

এদিকে এই আবহে রাজ্যে রীতিমতো নির্বাচনী উৎসব চলছে। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন রোড- শো, সভা, মিছিলে বহু মানুষের জমায়েত হচ্ছে। লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনা সংক্রান্ত আচরণবিধি। এর জেরে বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। যেখানে করোনার জন্য দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজো সহ একাধিক উৎসবে বিধিনিষেধ জারি হয়েছিল, রাশ টানা হয়েছিল, সেখানে ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলি কীভাবে এই পরিস্থিতিতে উন্মাদনায় ব্যস্ত থাকতে পারছে? কেন এভাবে মিটিং-মিছিল, সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে? তাঁরা এমনই প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁদের অভিনব প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে।

তাঁদের মূল দাবি, অবিলম্বে এভাবে ভোট বন্ধ করা হোক। তার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হোক নির্বাচনী সভা, মিটিং, মিছিল। বিকল্প কোনও উপায় অবলম্বন করা হোক। আর এই দাবিতেই এদিন ওই ৮-১০ জন রাস্তায় পিপিই কিট পরে, প্ল্যাকার্ড হাতে শুয়ে প্রতিবাদ দেখান। তাঁরা নির্বাচন কমিশনে এই মর্মে চিঠিও দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মঙ্গলবারের রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০৫৮ জন। কলকাতায় একদিনে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। এরপরই সংক্রমণের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭২ জন। প্রাণ হারিয়েছেন ১ জন। এর পাশাপাশি হুগলি, মালদা ও মুর্শিদাবাদেও ১ জন করে করোনায় মৃত্যু হয়েছে।

দিন দুই আগেই দৈনিক সংক্রমণ ছাড়িয়েছিল এক লক্ষের গণ্ডি। যা এই প্রথম। ২০২০ সালের রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে এ বছরে দেশের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা। গত বছর দেশে ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বাধিক করোনা সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল, সেই সময় একদিনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৮,৭৯৫। আমেরিকার পর ভারত এখন দ্বিতীয় দেশ, যেখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ পার করেছে। আমেরিকার তুলনায় বর্তমানে ভারতে অনেক বেশি দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৩৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে, দৈনিক মৃত্যুতে দেশে প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। ওই রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ২৯৭ জনের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে এখনও পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১ লক্ষ ৬৬ হাজার ১৭৭ জনের। আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২৮ লক্ষ ১ হাজার ৭৮৫। এরই মধ্যে করোনাকে জয় করে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ১৭ লক্ষ ৯২ হাজার ১৩৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৩০ জনের। এরইমধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেকথা জানিয়েছেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.