লকডাউনে হারিয়েছেন চাকরি! মোমো বিক্রি করেই জীবনযাপনের হাল ধরেছেন ভূগোলে স্নাতকোত্তর মৌমিতা

লকডাউনে হারিয়েছেন চাকরি! মোমো বিক্রি করেই জীবনযাপনের হাল ধরেছেন ভূগোলে স্নাতকোত্তর মৌমিতা
লকডাউনে হারিয়েছেন চাকরি! মোমো বিক্রি করেই জীবনযাপনের হাল ধরেছেন ভূগোলে স্নাতকোত্তর মৌমিতা

মোমো খেতে কে না ভালো বাসে! এক প্লেট গরম গরম মোমো সামনে এলেই এক নিমেষে তা সাবাড় করে ফেলতে আমাদের বেশি সময় যায় না। তাই ইদানীং আমাদের সক্কলের পছন্দের খাবারের তালিকায় মোমো যেন নিজস্ব জায়গা করে নিয়েছে। তবে শুধু তাই নয়, মোমোর কারণে বদলে গিয়েছে বহু মানুষের জীবনও৷ ভাবছেন এ আবার কী বলছি? তাহলে জানতেই হবে অশোকনগরের মৌমিতা মিস্ত্রির কাহিনী। লকডাউনে চাকরি হারিয়ে আজ যিনি হয়ে উঠেছেন কলকাতা শহরের অন্যতম সফল এক খাদ্য ব্যবসায়ী। শুধুমাত্র মোমো বিক্রি করেই। আসুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর কাহিনী।

করোনার জেরে গত বছর থেকেই দেশে বাড়ছে কর্মহীনের সংখ্যা। করোনা মোকাবিলায় জারি করা লকডাউনের প্রভাবে কাজ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। একের পর এক কোম্পানি ছাঁটাই করছে কর্মী এমনকি গত বছরের তুলনায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাঁদের মধ্যে অনেকেই হয়তো পরিবারের একমাত্র রোজগেরে৷ ফলে কাজ হারানোর কারণে অনিশ্চয়তায় মধ্যেই দিন কাটছে সেই মানুষগুলির পরিবারের। এঁদের মধ্যেই একজন ছিলেন, অশোকনগরের মৌমিতা মিস্ত্রি। ভূগোলে স্নাতকোত্তর মৌমিতা লকডাউনের জেরে গতবছর চাকরি হারান। সেসময় সাময়িক ভেঙে পড়লেও মনের জেদ হারাননি তিনি৷ তার-ই ফলপ্রসূ এই মোমোর দোকান।

চাকরি হারানোর পর শুধু নিজের জেদ এবং ইচ্ছেশক্তির উপর ভর করে একটি মোমোর দোকান খুলে ফেলেন মৌমিতা। রান্না করতে ভালোবাসতেন, তাই মোমো বানিয়ে তা বিক্রি করেই দিন গুজরানের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। প্রথমে ঠেলাগাড়িতে করেই অজয়নগরে মোমো বিক্রি করতেন মৌমিতা। সেখান থেকেই চাহিদা এবং জনপ্রিয়তা দুই-ই বাড়তে থাকে তাঁর৷ মৌমিতার হাতের ম্যাজিকে মাত হয়ে যান মোমোপ্রেমী খাদ্যরসিকরা৷ এরপর আস্তে আস্তে হাইল্যান্ডের পার্কের বিগবাজারের সামনে খুলে ফেলেন নিজের মোমোর দোকান, ‘মোমো চিত্তে।’ তিনি এবং তাঁর হবু স্বামী বিদ্যুৎ মিলেই সাজিয়ে গুছিয়ে তুলেছেন সে দোকান।

মৌমিতার ‘মোমো চিত্তে’ দোকানে পাওয়া যায় প্রায় ২২ রকমের মোমো৷ পিৎজা মোমো, চিজ বার্স্ট মোমো, আফগানি মোমোর পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে চকলেট আইসক্রিম মোমোও৷ সেই দোকান এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মৌমিতার হাতের মোমোর জাদুতে মুগ্ধ শহরবাসীরা। বাড়ছে লাভও। মৌমিতা এবং বিদ্যুৎ, দুজনে মিলেই দিব্যি এখন চালাচ্ছেন সেই দোকান। তাঁদের এই লড়াইকে কুর্নিশ।