পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচানোর জন্য এই লড়াই! নতুন দায়িত্ব পেয়ে আর কি কি জানালেন সুকান্ত মজুমদার?

অপ্রত্যাশিত ভাবেই সোমবার রাতে রাজ্য বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। আর এরপরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, “উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিনবঙ্গ বলে কোন কথা নেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে বাচানোর এই লড়াই”।

সোমবার রাতেই নাটকীয় ভাবে বড় রদ বদল হল রাজ্য বিজেপিতে। মেয়াদ উত্তীর্ণের আগেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো দিলীপ ঘোষ কে। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হল বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে।এদিন রাতেই বিজেপির সর্বভারতীয় মহাসচিব অরুণ সিং এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান এমনটাই।

এদিকে, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার থেকে চিঠি মারফৎ পশ্চিমবঙ্গেরর রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার খবর জানতে পেরে স্বাভাবিক ভাবেই খুশি সুকান্ত মজুমদার। এদিন তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিনবঙ্গ বলে কোন কথা নেই সমগ্র পশ্চিমবঙ্গকে বাচানোর এই লড়াই। সেই লড়াইয়ে ভয়, লোভে হয়তো অনেকেই চলে গেছে, তাতে দলের কোন ক্ষতি হয় না। বিজেপি আদর্শ ভিত্তিক একটি দল সেই জন্য কোনও নেতা চলে গেলে আদর্শ চলে যায় না”।

পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “এই পদে অনেকেই আগে ছিলেন, এখন তিনি আছেন। আগামীতে অন্য কেউ আসবেন তাই ওই নিয়ে এত ভাবিত নই। দল বর্তমানে যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই কাজ দায়িত্বের সাথে করে যাওয়াই মূল লক্ষ।” বিদায়ী রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে, নতুন সভাপতি হয়ে সুকান্ত বাবু বাবুল সুপ্রীয়র মত দলবদলু নিন্দা করার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য বানানোর জন্য জন বার্লার দাবিকে উড়িয়ে দেন। আর এতেই তিনি এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা চালান বলেও ধারনা রাজনৈতিক মহলের।

প্রসঙ্গত, তুলনামূলকভাবে ‘লো-প্রোফাইল’  সুকান্তকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়ার পিছনেও বহু কারণ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।  দীর্ঘদিনের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে ছিলেন সুকান্ত। তাই ‘আরএসএস ম্যান’ দিলীপের পরিবর্তে তাঁকে আনা হয়েছে। সংঘের ভোট ছিল তাঁর দিকে। এছাড়াও, ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গে বিজেপির পায়ের তলার মাটি শক্ত হয়েছে। এবারের বিধানসভা ভোটেও উত্তরবঙ্গে ভালো ফল করেছে বিজেপি। ফলে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের দিকে পাখির চোখ করে উত্তরবঙ্গের এক প্রতিনিধিকে রাজ্য সংগঠনের শীর্ষ পদে বসিয়ে বিশেষ বার্তা দিল বিজেপি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।