বড় সাফল্য STF-এর ঝুলিতে! জেএমবি জঙ্গিদের অর্থ সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার আরও এক

বড় সাফল্য STF-এর ঝুলিতে! জেএমবি জঙ্গিদের অর্থ সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার আরও এক
বড় সাফল্য STF-এর ঝুলিতে! জেএমবি জঙ্গিদের অর্থ সাহায্যের অভিযোগে গ্রেফতার আরও এক

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের বড় সাফল্য কলকাতা পুলিশের STF-এর ঝুলিতে! জেএমবি কাণ্ডে এবার বারাসাত থেকে গ্রেফতার জেএমবি জঙ্গিদের এক লিংকম্যান। বৃহস্পতিবার সকালে বারাসাত থেকে অভিযুক্ত রাহুল সেন ওরফে রাহুল কুমারকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।

অভিযুক্ত রাহুল সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সে ‘হুন্ডি’ ব্যবস্থার মাধ্যমে জেএমবি জঙ্গিদের অর্থের জোগান দিত। শুধু তাই নয়, ধৃত নাজিউর-সহ একাধিক বাংলাদেশি জঙ্গিকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, আজই তাকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হবে।

পুলিস সূত্রে খবর, ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটো ল্যাপটপ, একটি আই-প্যাড, দুটো মোবাইল, একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূ্র্ণ নথি। হরিদেবপুর থেকে ধৃত নাজিউরের ঘনিষ্ঠ এই রাহুল সেন ওরফে রাহুল কুমার। জঙ্গিদের গা ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া থেকে শুরু করে, জাল ভারতীয় আইডি কার্ডও তৈরি করে দিত এই ধৃত। ঠিক যেমন ভাবে জয়রাম ব্যাপারী নামে ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল জঙ্গি নাজিউর ওরফে জোসেফ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত শনিবারই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে, তিনজন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা STF। এরা সকলেই নব্য জেএমবি সদস্য বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এরা ডেরা বেঁধেছিল কলকাতায়। ভুয়ো পরিচয়পত্র দাখিল করায়, বাড়িভাড়া পেতেও খুব একটা সমস্যা হয়নি। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে, অভিযান চালিয়েছিল কলকাতা পুলিশের STF। এরপরই গ্রেফতার করা হয় তিন জেএমবি জঙ্গিকে।

এদিকে ইতিমধ্যেই তদন্তে জানা গিয়েছে যে, মালদহ ও বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছে জেএমবি জঙ্গিরা। উল্লেখ্য, প্রায় আড়াই বছর আগে এই শহরে ঘাঁটি গাড়ে নাজিউর রহমান ওরফে জোসেফ ওরফে জয়রাম ব্যাপারী। অন্যদিকে, ২ মাস নয়, ধৃত অপর জঙ্গি মিকাইল খান ওরফে শেখ সাবির প্রায় তিন বছর ধরে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে এই শহরে।

তবে, দেড় মাস আগে বসিরহাট সীমান্ত দিয়ে এ দেশে অনুপ্রবেশ করে জঙ্গি রবিউল ইসলাম। অর্থাৎ যখন বিধি-নিষেধের কড়া নিয়মে কার্যত ঘরবন্দি ছিল জনজীবন, সেই সময় সীমান্ত পার করে এ রাজ্যে ঢুকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় আসে রবিউল। এই তিন জঙ্গির গ্রেফতারির পর থেকেই তাদের লিংকম্যানদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্ত শুরু করেই পুলিশের কাছে রাহুল ওরফে লালু সেনের নাম আসে। পুলিশ জানতে পারে যে, এই রাহুল কুমার ধৃত জেএমবি জঙ্গিদের টাকার জোগান দিত। বিদেশ থেকে আসা টাকা এই লালুর মাধ্যমেই পৌঁছে যেত জেএমবি জঙ্গিদের কাছে, উল্লেখ্য, হুন্ডি ব্যবস্থাও হল এক ধরনের হাওয়ালা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে টাকার জোগান আসত।

এই ধৃত রাহুল সেন ওরফে লালু আদৌ ভারতীয়, নাকি সেও ভুয়ো পরিচয়ে এ রাজ্যে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল, এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে চাইছে। সাধারণ মানুষের ভিড়ে মিশে এভাবে মিথ্যে পরিচয়ে দিনের পর দিন তারা এরাজ্যে বাস করছিল যা যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ। হরিদেবপুরের পর কলকাতা লাগোয়া বারাসাত থেকে জেএমবি লিংকম্যান গ্রেফতার হওয়ার পর, স্বাভাবিকভাবেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলায় জেএমবি জঙ্গিদের সক্রিয়তা নতুন কোনও ঘটনা নয়। তবে, খাগড়াগড় কাণ্ডের পর ধরপাকড় শুরু হলে, এ রাজ্যে সক্রিয় জেএমবি স্লিপার সেলের বেশির ভাগ সদস্যই গ্রামেগঞ্জে বা মফঃস্বলে আত্মগোপন করে। এর আগে শেষবার জেএমবি জঙ্গি নেতা কওসরকে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা সক্রিয় হয়েছিল। পুলিশি কনভয়ে হামলা চালিয়ে, জঙ্গি নেতাকে ফিনতাইয়ের ছক ছিল তাদের। যদিও সেই ছক ভেস্তে দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। গত শনিবার মাঝরাতে কলকাতায় জেএমবি সদস্যদের ধরা পড়ার খবর থেকে এটা স্পষ্ট যে, দেশজুড়েই জঙ্গিজাল ছড়িয়ে পড়ছে। এরপরই এই জঙ্গিদের লিংকম্যানদের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। সেই খোঁজে এবার সাফল্য মিলল, ধরা পড়ল এক লিংকম্যান।