‘সরাসরি বললে কয়েক মাস জেল খেটে নেবো, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই’! রক্ষীর মৃত্যুর FIR নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

'সরাসরি বললে কয়েক মাস জেল খেটে নেবো, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই'! রক্ষীর মৃত্যুর FIR নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু
'সরাসরি বললে কয়েক মাস জেল খেটে নেবো, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই'! রক্ষীর মৃত্যুর FIR নিয়ে বিস্ফোরক শুভেন্দু

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তারক্ষী থাকাকালীন গুলিবিদ্ধ হন শুভব্রত চক্রবর্তী। সেই ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর কাঁথি থানায় FIR দায়ের করেছেন মৃত রক্ষীর স্ত্রী সুপর্ণা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তী। অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বিস্ফোরক হয়ে উঠলেন বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রীর মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধেও আনলেন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

এফআইআর প্রসঙ্গে এদিন সংবাদমাধ্যমে শুভেন্দুকে প্রশ্ন করা হলে প্রথমেই তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলব না।” তারপরই মুখ খোলেন তিনি৷ জানান, “ওই ঘটনার শুরুতেই এফআইআর হয়েছিল। চূড়ান্ত চার্জশিটও হয়েছে। দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট জমা পড়ার পরে তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই পরিবার জীবনবিমার টাকাও তুলে নিয়েছে। আজ তাহলে ২ বছর ৮ মাস পরে কেন আবার এফআইআর হল? কারণটা রাজনৈতিক। ওই পরিবারের সদস্য তৃণমূল বিধায়ক। এই কারণে এসব হচ্ছে। আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।”

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দুর দাবী, “মমতা ব্যানার্জিকে নন্দীগ্রামে পরাজিত করায় তিনি হারের জ্বালা মেটাচ্ছেন। উনি সরাসরি বলুন, যে শুভেন্দু অধিকারী তুমি আমাকে নন্দীগ্রামে হারিয়ে দিয়েছো। তাই ৩ মাস বা ৬ মাস জেলে থাকতে হবে। যেদিন বলবেন তাঁর ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ক’দিন জেলে কাটিয়ে আসব। উনি বয়সে বড়। ওঁকে মর্যাদা দিয়ে জেলে থেকে আসব।” পাশাপাশি শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্য, ” নন্দীগ্রামের হারের যন্ত্রণা থেকে উনি এসব করছেন। শুভেন্দু অধিকারীকে ভয় দেখিয়ে কিছু হবে না। উনি যা করবেন তাতে আমার রাজনৈতিক লাভ, ক্ষতি হবে না। আমি মাথা নত করার লোক নই।”

যদিও এতবছর পর এফআইআর দায়ের করা নিয়ে মৃত রক্ষীর স্ত্রী সুপর্ণার দাবী, স্বামীর মৃত্যুর পরই একাধিক বিষয়ে সন্দেহ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত প্রভাবশালী মানুষ। তাই তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমেই মুখ খোলা সম্ভব হয়নি। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। তাই এখন ন্যায় বিচার পাওয়ার আশাতেই সাহস করে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। অন্যদিকে, রক্ষীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ তথা মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়ক তিলক চক্রবর্তীও হত্যার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।