‘বাংলাদেশের ঘটনার পর আরও তিনগুণ বেশি ভোটে জিতবে বিজেপি’! বিস্ফোরক দাবী শুভেন্দুর

‘বাংলাদেশের ঘটনার পর আরও তিনগুণ বেশি ভোটে জিতবে বিজেপি’! বিস্ফোরক দাবী শুভেন্দুর
‘বাংলাদেশের ঘটনার পর আরও তিনগুণ বেশি ভোটে জিতবে বিজেপি’! বিস্ফোরক দাবী শুভেন্দুর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পরেও শিক্ষা হয়নি বিজেপির। ভবানীপুরের উপনির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর দাবী করেছিল বিজেপি। একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি হবে বলেও দাবী করেছিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। শুভেন্দু অধিকারী তো কয়েক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন যে, ভবানীপুরে প্রিয়াঙ্কা জিতলে, তাঁকে নিজের পদ ছেড়ে দেবেন। কিন্তু তারপরেও রেকর্ড ভোটে যেতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতো কিছুর পরেও কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন শুভেন্দু অধিকারী।

চলতি মাসেই রয়েছে রাজ্যের বাকি চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এই চার কেন্দ্রের নির্বাচনে জিততে মরিয়া রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে একুশের নির্বাচনে নিজেদের যেতা দুই আসন দিনহাটা এবং শান্তিপুরে জিততে বদ্ধপরিকর রাজ্য বিজেপি। তাই বাংলাদেশে মৌলবাদীদের দুর্গা প্রতিমা ও হিন্দুদের উপর আক্রমণকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বাংলায় ভোটে লড়তে চাইছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবী করেছেন যে, বাংলাদেশের ঘটনার পর কৃষ্ণনগর আসনে তিনগুণ ভোটে জিতবে বিজেপি প্রার্থী।

উল্লেখ্য, ওপার বাংলার কুমিল্লা এবং নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক অশান্তির আঁচ এপার বাংলাতেও এসে পড়েছে স্বাভাবিকভাবেই। রাজ্যের শাসক দল থেকে বিরোধী, সমস্ত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক এবং বিরোধী দুই দলই একে অপরকে কটাক্ষ করাও শুরু করেছে।

৩০ অক্টোবর রয়েছে বাংলার বাকি চার কেন্দ্রের উপনির্বাচন। এদিকে, এই পরিস্থিতিতে আসন্ন উপনির্বাচনের ময়দানেও ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের এই ঘটনা। রবিবার শান্তিপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে বাংলাদেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার কথায়, ‘বাংলাদেশের ঘটনার পর আরও তিনগুণ বেশি ভোটে এই আসনে জিতবে বিজেপি।’ যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

শান্তিপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তিপুর বিধানসভায় ইতিমধ্যেই চতুর্মুখী লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপুর বিধানসভায় জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার। প্রায় ১৬ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই শান্তিপুর বিধানসভায় আবারও উপনির্বাচন হতে চলেছে। দ্বিতীয়বারের লড়াইয়েও জায়গা ছাড়তে নারাজ রাজ্য বিজেপি। এই কেন্দ্রে জয়ের ধারা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর রাজ্য বিজেপি।

রবিবার প্রচারে গিয়ে, দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে এবং শান্তিপুরের একটি বেসরকারি লজে কর্মীসভায় যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বাংলাদেশের হামলার প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, ‘ওপার বাংলা থেকে অত্যাচারিত হয়ে মানুষজন এখানে এসেছে। ওপার বাংলায় বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোয় যা হয়েছে, তার উত্তর শান্তিপুরের মানুষ দেবে।’

তবে, এলাকার গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করতেই ক্ষুব্ধ হন শুভেন্দু অধিকারী। সাংবাদিকদের ‘চটি চাটা মিডিয়া’ বলেও কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে নন্দীগ্রামের বিধায়ককে। সম্প্রতি শান্তিপুরের মণ্ডল সভাপতিও তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তবে, কীভাবে এলাকার ভোট বিজেপির দিকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তরে বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘বিজেপিতে ব্যক্তি কোনও প্রাধান্য পায় না। এটা আদর্শের ভোট। বিচারধারার ভোট। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভোট। যদিও কারও কোনও প্রভাব থাকে এই নির্বাচনে, তবে তা নরেন্দ্র মোদীর।’

এদিন কর্মীসভায় শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। বৈঠক শেষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘বিজেপি একটি সর্বভারতীয় দল। শান্তিপুর বিধানসভার মানুষ উপনির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আরও একবার জয়যুক্ত করবে। আমি আশাবাদী সবথেকে বেশি ভোটে লিড দেবে শান্তিপুর।’