এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করুন, দলত্যাগী দুই বিধায়ককে চিঠি শুভেন্দুর

এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করুন, দলত্যাগী দুই বিধায়ককে চিঠি শুভেন্দুর
এক সপ্তাহের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করুন, দলত্যাগী দুই বিধায়ককে চিঠি শুভেন্দুর

নিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ গত দুইদিনে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন দুই বিধায়ক। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিধায়কদের ভয় দেখানোর এবং চাপ সৃষ্টি করে দল ছাড়তে বাধ্য করার মতো অভিযোগ উঠছে। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করছে তৃণমূল কংগ্রেস।

একুশের নির্বাচনের পর, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। এখনও তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর ফের সোমবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। এরপর গতকালই বাগদার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসও তৃণমূলে যোগ দেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই বিধায়ক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এরপরই বিশ্বজিৎ দাস ও তন্ময় ঘোষকে চিঠি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দলত্যাগীদের উদ্দেশে বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট নির্দেশ, এক সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের রাজনৈতিক ‘অবস্থান’ জানাতে হবে।

মুকুল রায়ের মতোই তন্ময় এবং বিশ্বজিতের বিরুদ্ধেও দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করে বিধায়ক পদ খারিজের দাবি জানানোর পথেই হাঁটবে বিজেপি৷ তেমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। তবে, তার আগে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান জানাতে বলা হয়েছে।

ব্রাত্য বসুর সঙ্গে তন্ময় ঘোষ

 

দলত্যাগী দুই বিধায়ককেই চিঠি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। চিঠিতে সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে জানতে চাইলেন, এখন তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কী? বলা হল, এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব না পেলে ধরে নেওয়া হবে, তাঁরা দলত্যাগ করেছেন। চিঠিতে সঙ্গে আবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের কপিও পাঠিয়েছেন শুভেন্দু। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন বিশ্বজিৎ দাস ও তন্ময় ঘোষ। দলবদলের পর ফের একুশের বিধানসভা ভোটে জেতেন দু’জনেই। তাঁদের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল।

তৃণমূলের পতাকা হাতে বিশ্বজিৎ দাস

উল্লেখ্য, একুশের বিধাসভা নির্বাচনে বাংলায় ব্যাপক ভোটে জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর আসনে তৃতীয়বারের জন্য বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে বাংলার কোণায় কোণায় মোদী-অমিত শাহ ম্যাজিক পৌঁছে গেলেও, তাঁদের প্রচারে ব্যাপক সাড়া মিললেও, শেষ হাসি হেসেছে তৃণমূল কংগ্রেসই। ভাঙা পা নিয়েই খেলা দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় মোদী-অমিত শাহ-সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ডেলি প্যাসেঞ্জারি শেষ পর্যন্ত কোনও কাজেই আসেনি।

বাংলা দখলের স্বপ্ন এবারের মতো অধরাই থেকে গেছে বিজেপির। মোদী-অমিত শাহ জুটির বিধানসভা ভোটে ২০০-র বেশি আসনে জেতার স্বপ্ন, ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের স্বপ্ন সবই স্বপ্নই থেকে গেছে। যদিও, ভোটের আগে তৃণমূলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছিল, বিজেপির নির্বাচনী প্রচার এবং মোদী ম্যাজিকে অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই চিত্রটা আবার উল্টে যায়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি ছাড়ার হিড়িক পড়ে। সেইভাবেই ফের বিজেপিতে ভাঙন দেখা দিল। মুকুল রায়ের পর পদ্মফুলের পতাকা ছেড়ে গতকালই ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন তন্ময় ঘোষ। যদিও তিনি নিজ কেন্দ্রে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। আর এরপর তৃণমূলে যোগ দিলেন বাগদার বিজেপি বিধায়কও। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ‘বাংলার মেয়ে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরই ভরসা করেছে রাজ্যের মানুষ। এদিকে বিজেপিতে ভাঙন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপিও।