‘একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল’, সৌগত রায়কে বার্তা শুভেন্দুর

‘একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল’, সৌগত রায়কে বার্তা শুভেন্দুর‘একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল’, সৌগত রায়কে বার্তা শুভেন্দুর
‘একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল’, সৌগত রায়কে বার্তা শুভেন্দুর

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সমস্যা মিটে গিয়ে দলের সম্পর্ক ঠিক হয়ে গিয়েছে বলেই গতকাল জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তবে এর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফের ছন্দপতন। বরিষ্ঠ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে সদ্য প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন সম্পর্কের জটিলতা এখনো কাটেনি। একইসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “আমাকে মাফ করবেন, একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল”। তবে শুভেন্দু অধিকারীর হোয়াটস্যাপ ম্যাসেজ নিয়ে বেশি কথা বলতে নারাজ সৌগত বাবু।

বিগত কয়েক দিন ধরে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল রয়েছে শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে। বেশ কিছুদিন ধরেই দলের সঙ্গে যে শুভেন্দু অধিকারী ঠান্ডা লড়াই চলছে তা প্রকাশ্যে আসছে বারবার। এর মধ্যে সব জল্পনা উস্কে দিয়ে মন্ত্রিত্বও সরকারি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শুভেন্দু বাবু। তারপরে মঙ্গলবার সৌগত রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে প্রশান্ত কিশোর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ দুঘন্টা বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী।

এই বৈঠকের পর এই প্রকাশ্যে সৌগত রায় জানান দলের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সম্পর্কের সমস্যা মিটে গিয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী দল ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না। তিনি এক সঙ্গে লড়াই করবেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে। এমনকি এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেন্দু বাবু কে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলেও দাবি করেছিলেন সৌগত বাবু।

এর কয়েক ঘণ্টা কাটতেই ফের ছন্দ পতন ঘটল। শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, বৈঠকের পর এই সৌগত রায়কে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ করে সম্পর্কের জটিলতা যে সরল হয়নি তা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে সৌগত রায়কে জানিয়েছেন, ” আমার বক্তব্যের সমাধান না করেই আমার উপর সব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 6 ডিসেম্বর আমার সাংবাদিক সম্মেলন করার কথা ছিল। সাংবাদিক সম্মেলন করে জানানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আপনারা প্রেসকে সব জানিয়ে দিলেন। ফলে একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল। আমাকে মাফ করবেন”।

এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সৌগত রায় জানিয়েছেন, “মেসেজ এসেছে কিন্তু এই নিয়ে কোনো কথা বলবো না। আমি গতকাল মিটিংয়ে যা হয়েছিল তা সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের জানিয়েছি। সব খুঁটিনাটি সমস্ত কিছু জানিয়েছি। আমি বলেছিলাম শুভেন্দু অধিকারী পরে জানাবেন। এরপর যদি শুভেন্দু মত পরিবর্তন করে থাকে তাহলে সেটা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তিনি আপনাদের বাকি সব জানবেন। আমাদের আর কিছু বলার নেই”। একইসঙ্গে সৌগত অবস্থিত করে জানিয়ে দিয়েছেন আপাতত দলের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর এখন আর কোনও বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যের পর ফের একবার তার সঙ্গে দলের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দু অধিকারীর বেশ কিছু বক্তব্য ছিল দলের কাছে। তিনি প্রশান্ত কিশোর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন বিগত বৈঠকে। তার সেই সমস্ত দাবি বা বক্তব্যের কোন সমাধান না করে উল্টে প্রকাশ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে এমন দাবি করাতেই যে ফের সন্তুষ্ট হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী তা এবার স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিলেন তিনি। তবে নতুন করে এই জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে সম্পর্ক আবার পুনরায় আগের মত হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.