এবার শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

এবার শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন
এবার শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এক এক করে সকলকেই সতর্ক করছে নির্বাচন কমিশন। কারও ক্ষেত্রে শাস্তির পরিমাণ বড়, কারও ক্ষেত্রে খানিকটা কম, আবার কাউকে শুধুমাত্র সতর্ক করেই ছেড়ে দেওয়া।

নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে এবং প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জেরে এখন এই পদক্ষেপি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই পদক্ষেপ নিতে গিয়ে কাল প্রথমেই ২৪ ঘণ্টার জন্য তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কমিশন। যা এককথায় বেনজির ঘটনা। এরপর পালা আসে রাহুল সিনহার। আজ শীতলকুচি কাণ্ডে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে বিনা নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার জন্য রাহুল সিনহার নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন। এরপর আজই আবার শীতলকুচি কাণ্ডে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। যার জবাব কাল সকাল ১০ টার মধ্যে দেওয়ার কথা।

এদিকে এবার প্ররোচনামূলক মন্তব্যের জেরে আগেই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে শো-কজ নোটিশ পাঠিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। যার জবাবও দিয়েছেন বিজেপির এই নেতা। তবে, তাতে সন্তুষ্ট নয় নির্বাচন কমিশন। সেই কারণেই এবার শুভেন্দু অধিকারীকে সতর্ক করল নির্বাচন কমিশন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ নন্দীগ্রামের এক সভায় শুভেন্দু অধিকারীর এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে গত ৮ এপ্রিল কারণ শো-কজ নোটিস পাঠায় নির্বাচন কমিশন। পরদিনই ওই নোটিসের জবাব দেন শুভেন্দু। অভিযোগ, শুভেন্দু তাঁর একটি বক্তব্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কী বলেছিলেন শুভেন্দু? ওইদিন সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘একদিকে আমাদের বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে রয়েছে আপনাদের পরিবারের ছেলে। এখন বলুন, আপনারা কাকে ভোট দেবেন? বেগমকে নাকি আপনাদের ছেলেকে? বেগমকে ভোট দিল এখানে মিনি পাকিস্তান হবে।’ এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানায় তৃণমূল কংগ্রেস। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে শুভেন্দুকে নোটিশ পাঠায় কমিশন। এবং নোটিশের জবাবে পড়ে সন্তুষ্ট না হওয়ায় এবার সতর্কীকরণ করা হল।

নির্বাচন কমিশনের রোষের মুখে একসঙ্গে বিজেপির তিন শীর্ষ নেতা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির পক্ষ থেকে কমিশনের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, কমিশনের সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেবে বিজেপি। গেরুয়া শিবির থেকে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার কমিশনের নিরদেশকে সম্মান জানানর পাশাপাশি এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তাই কমিশনের আদেশ মেনে নিচ্ছি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্নায় বসে নাটক করলেন। জানতে চাই ওনার প্রতিবাদ কমিশনের বিরুদ্ধে, নাকি দেশের সংবিধানের বিরুদ্ধে?’

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, একপ্রকার চাপে পড়েই এই সিদ্ধান্ত বিজেপির এই তিন নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.