WT20: পরপর ৩ ছক্কা, ওয়েড ঝড়ে উড়ে গেল পাকিস্তান! ফাইনালে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া

WT20: পরপর ৩ ছক্কা, ওয়েড ঝড়ে উড়ে গেল পাকিস্তান! ফাইনালে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া
WT20: পরপর ৩ ছক্কা, ওয়েড ঝড়ে উড়ে গেল পাকিস্তান! ফাইনালে মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া

ঠিক যেন প্রথম সেমিফাইনালের অ্যাকশন রিপ্লে! শেষ দুই ওভারে দরকার ২২ রান। তখনই পরপর ৩ ছক্কা! আর তাতেই উড়ে গেল পাকিস্তান। ছক্কার হ্যাটট্রিক করে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে দিলেন ম্যাথিউ ওয়েড। অজিরা পৌঁছে গেলেন টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। রবিবার তাদের মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে, সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান। স্বপ্নভঙ্গ লাখ লাখ পাকিস্তানির৷

বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান। গ্রুপ লিগে প্রতিটি ম্যাচ জিতে রেকর্ড করে সেমিতে খেলতে নেমেছিলেন পাক ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে, গ্রুপ লিগে একটি ম্যাচ হেরে বসেছিলেন অজিরা। তবে এদিন সেসব রেকর্ড কোনও কাজেই লাগল না। ভাগ্য সঙ্গ দিলেন তাদেরই যারা মাঠে দেখালেন দৃঢ়তা৷ চাপের মুখেও ঠাণ্ডা মাথায় ম্যাচ বের করলেন যারা। এখানেই পাকিস্তানকে মাত দিল অস্ট্রেলিয়া।

এদিন টসে জিতে বাবর আজমদের প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান অজি ক্যাপ্টেন অ্যারন ফিঞ্চ। দুই পাক ওপেনার বাবর ও রিজওয়ান শুরুও করেছিলেন দুর্দান্ত। দুজনে মিলে শুরুতেই ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। এরপরই ৩৪ বলে ৩৯ রান করে আউট হন পাক অধিনায়ক। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন ফকর জামান। ঠিক তারপরই ৫২ বলে ৬৭ রান করে রিজওয়ান আউট হলে দলের হাল ধরেন ফকর৷ মাঠে চার-ছক্কার ঝড় তুলে ৩২ বলে ৫৫ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৪ উইকেট খুঁইয়ে স্কোরবোর্ডে ১৭৬ রান তোলে পাকিস্তান।

জবাবে ব্যাট করতে নেমেই উইকেট খুইয়ে বসেন অজিরা। প্রথম ওভারেই শাহিন আফ্রিদির বলে অ্যারন ফিঞ্চ আউট হতেই কেঁপে যায় অস্ট্রেলীয় শিবির। দলে সেসময় দলের হাল ধরেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মিচেল মার্শ। ২২ বলে ২৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মিচেল। অম্যদিকে ৩০ বলে ৪৯ রান করে আউট হয়ে যান ওয়ার্নার। এদিন পাকিস্তানের হয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন শাদাব খান। তাঁর শিকার মার্শ, স্মিথ, ম্যাক্সওয়েল ও ওয়ার্নার৷ একটা সময় ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ম্যাচ খুইয়ে বসার আশঙ্কা চেপে বসে অজি শিবিরে।

তখনই দলের হাল ধরেন মার্কাস স্টোয়নিস ও ম্যাথিউ ওয়েড। যদিও তখনও পাকিস্তানের আটোসাঁটো বোলিংয়ের সামনে রান তুলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল স্টোয়িনিস-ওয়েডদের। আস্কিং রেটও চড়চড় করদ বেড়ে যাচ্ছিল। শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। এরপর ১৮তম ওভারে হাসান আলি ১৫ রান দিয়ে বসেন। শেষ দুই ওভারের জন্য যখন দরকার ২২ রান, তখন ১৯তম ওভারে বল করতে আসেন আফ্রিদি। ওভারের তিন নম্বর বলে ওয়েডের ক্যাচ ফেলে দেন হাসান আলি। ব্যাস! তারপরই শুরু হল আসল খেলা। শেষ তিন বলে তিন বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার পকেটে পুরলেন ওয়েড। তাঁর দাপটে খেলা শেষ ওভার পর্যন্ত গড়ালোই না। ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড় তুলে অপরাজিত থাকেন ওয়েড। আর এক অপরাজিত ব্যাটার স্টোয়নিসের সংগ্রহ ৩১ বলে ৪১।

এদিন ৬ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জেতে অস্ট্রেলিয়া। পৌঁছে গেল ফাইনালে। যেখানে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ড। প্রসঙ্গত, প্রথম সেমিফাইনালের লড়াইয়ে ঠিক এরকম ভাবেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ম্যাচ জিতেছিলেন কিউয়িরা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ তিম ওভারে যখন ৩৪ রান দরকার জিমি নিশাম এবং ডেরিল মিচেলের পালটা লড়াইয়ে এক ওভার বাকি থাকতেই জেতে নিউজিল্যান্ড। সেখানেও উঠেছিল ছক্কার ঢেউ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালেও সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হল যেন। আর তাতেই ২০১৫ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের পর ফের আরেক বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড।