‘অর্থ এবং নারীর চক্র থেকে দলকে টেনে বার করা অত্যাবশ্যক’! ধারাবাহিক টুইটবোমা তথাগতর

‘অর্থ এবং নারীর চক্র থেকে দলকে টেনে বার করা অত্যাবশ্যক’! ধারাবাহিক টুইটবোমা তথাগতর
‘অর্থ এবং নারীর চক্র থেকে দলকে টেনে বার করা অত্যাবশ্যক’! ধারাবাহিক টুইটবোমা তথাগতর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিজেপির রাজ্যে নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সংঘাত ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই সংঘাত মেটার নয় বলে মনে করছেন অনেকেই। ক্রমশ ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই ক্রমাগত রাজ্য শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করে চলেছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়। দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের ক্রমাগত নিশানা করে চলেছেন তিনি।

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষের পরেও তিনি যে দমে যাননি, তার প্রমাণ মিলল তথাগত রায়ের নতুন টুইটে। রাজ্য নেতৃত্বের উদ্দেশে ফের চড়া সুরে আক্রমণ শানালেন তিনি। শুধু আক্রমণ করাই নয়, দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও আনলেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা। তাঁর নয়া ধারাবাহিক বিস্ফোরক টুইট ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। তবে, সেই অভিযোগের পাশাপাশি তথাগত রায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর আস্থা রেখে, তাঁদের আহ্বান জানিয়েছেন, দলের এই খারাপ সময়ে, দলকে ‘খাদ’ থেকে টেনে তোলার জন্য।

নতুন টুইটে তথাগত রায় লিখেছেন, ‘বেকারি, দলবাজি, তোলাবাজি, খুনখারাপি, সংখ্যালঘু তোষণ ইত্যাদি সমস্যায় মানুষ পর্যুদস্ত হয়ে বিজেপিকে চাইছিলেন। তা সত্ত্বেও বিজেপি কেন এরকম শোচনীয় ফল করল তা নিয়ে বিশ্লেষণ প্রয়োজন। কারা এর জন্য দায়ী তাও চিহ্নিত করতে হবে। আগেই করা উচিত ছিল, এখনো হতে পারে। কিন্তু এড়িয়ে গেলে চলবে না।’

পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, ‘৩ থেকে ৭৭ (এখন ৭০) গোছের আবোলতাবোল বুলিতে পার্টি পিছোবে, এগোবে না। অর্থ এবং নারীর চক্র থেকে দলকে টেনে বার করা অত্যাবশ্যক। দলের নবনিযুক্ত সভাপতি ও বিরোধী দলনেতা-এঁরা দুজনে নেতৃত্ব দিন। পুরোনো চক্রে ফেঁসে থাকলে এখন যে পুরভোটের প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না এরকম অবস্থাই চলবে।’

তাঁর আরও সংযোজন, ‘প্রতিটি রাজনৈতির দলেই দু’প্রকার মানুষ থাকেন। একপ্রকার, যারা কিছু দিতে এসেছেন। আরেকপ্রকার, যারা কিছু পেতে এসেছেন। দ্বিতীয় প্রকারের মানুষগুলিকে সম্পূর্ণ মুছে দেওয়া হয়নি সম্ভব নয়, কিন্তু, নেতৃত্বের উচিত আসল সত্যটা জেনে রাখা।’ তাঁর এই লাইনে আদতে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ- সভাপতি সম্পর্কে খোঁচা রয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

অন্যদিকে, এদিনের এই ধারাবাহিক টুইটের একটিতে তথাগত রায় লেখেন, ‘সকালে টিভি খুললেই ভগবানপুরে বিজেপি কর্মী নিহত, অশোকনগরে অবৈধ মদ, এক বালতি তাজা বোমা উদ্ধার। হায়, একটা কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হল, কোনও শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করবেন, এরকম খবর শোনা যায় না। সর্বব্যাপী নৈরাশ্যে ছেয়ে আছে রাজ্য।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দেগেছেন তথাগত রায়। কখনও বিধানসভা নির্বাচনে নবাগতদের টিকিট দেওয়া আবার কখনও কন্যাশ্রী প্রকল্পের বানান বিভ্রাট। এই বিজেপি নেতার একের পর এক ‘আক্রমনাত্মক’ টুইটে হইচই পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। সম্প্রতি ‘ধৈর্যের বাঁধ’ ভেঙেছে বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষেরও। তাঁকে তথাগত রায়ের বিরুদ্ধে সরব হতেও দেখা গিয়েছে। সম্প্রতি তথাগত রায়কে উত্তর দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, ‘ঠিক আছে, কতদিন লজ্জা পাবেন। দল ছেড়ে দিন। যাঁরা দলের জন্য কিছুই করেননি, যাঁদের দল সবথেকে বেশি দিয়েছে, তাঁরাই সব থেকে বেশি দলের ক্ষতি করেন। আমাদের দুর্ভাগ্য এটা।’ তথাগত রায়ের এদিনের এই ধারাবাহিক টুইটবোমা নিক্ষেপের পর, রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া কী দাঁড়ায়! বা ফের এই টুইটের উত্তরে পাল্টা দিলীপ ঘোষদের জবাব কী থাকে সেটাই দেখার।