রাজ্যের ভোটকর্মীদের টিকাকরণের নির্দেশ মুখ্যসচিবের

রাজ্যের ভোটকর্মীদের টিকাকরণের নির্দেশ মুখ্যসচিবের
Image Source: Screengrab from Facebook Video Post By @wbdhfw

কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। অন্তত কমিশন সূত্রে এমনটাই খবর। ভোট কর্মীদের টিকা দিতে হবে এই মর্মে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিবকে। সেই নির্দেশে রাজ্যের ভোটকর্মীদের টিকাকরণের আওতায় আনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, কতজন ভোট কর্মীকে টিকা দিতে হবে তার তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। তারপর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যের জেলা প্রশাসন তার তথ্যপঞ্জী তৈরি করতে তৎপরতা শুরু করে। রাজ্য প্রশাসনের তরফে ভোটকর্মীদের টিকা দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। 

শুক্রবার রাজ্যের সব জেলাশাসক, কমিশনারদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করেন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। টিকা দেওয়া নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে একাধিক নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন সূত্রে খবর, প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিস কর্মীদের সম্মুখভাগের যোদ্ধা হিসেবে করোনা টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমত স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিস ও পুরকর্মীদের টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এবার রাজ্যের সব সরকারি, আধা সরকারি, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারীদের করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সূত্রের খবর, রাজ্যের সব সরকারি কর্মচারীকে  দেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব কর্মীকে অনুরোধ করা হয়েছে, নিজের উদ্যোগে নাম নথিভুক্ত করতে। এ পর্যন্ত পুলিস, স্বাস্থ্যকর্মী, পুরকর্মী মিলিয়ে সাত লক্ষ কর্মীকে দেওয়া হয়েছে, বাকিদেরও দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে রাজ্যের সরকারি, আধা সরকারি, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা সাড়ে ৯ থেকে ১০ লক্ষ হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। 

সূত্রের খবর, যাঁরা ভোটকর্মী হিসেবে কাজ করবেন তাঁদের টিকার প্রথম ডোজ ৬ মার্চের মধ্যে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সম্মুখভাগের চিকিৎসকদের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকাকরণের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকাকরণের কাজও শেষ করতে হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে টিকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে। 

নবান্ন সূত্রে খবর মূলত নির্বাচনের আগেই যাতে টিকাকরণের কাজ অনেকটাই শেষ করে নেওয়া যায় তার জন্যই আরও গতি আনা হচ্ছে কাজে। এই দিনের বৈঠকে নির্বাচনের কাজে যে সমস্ত বাস বা বিভিন্ন পরিবহন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সেই সব যানবাহনের চালক এবং কন্ডাক্টরদের টিকাকরণের আওতায় নিয়ে আআসা হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সূত্রের খবর, এই বিষয় নিয়ে এ দিনের ভিডিও বৈঠকে আলোচনা হয়। যদিও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমকে চিঠি দিয়ে বলেছিলেন, এবারের বিধানসভা ভোটে যেসব সরকারি কর্মচারী যুক্ত থাকবেন, তাঁদের করোনা টিকা দিতে হবে। কোউইন পোর্টালে সেইসব ভোটকর্মীর নাম নথিভুক্ত করতে হবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আরও যে চারটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট হবে, সেখানেও একই নির্দেশ পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। এবার পশ্চিমবঙ্গে বুথের সংখ্যা বেড়ে এক লক্ষের বেশি হয়েছে। ফলে ভোটকর্মীর সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ৪ লক্ষ হয়ে যাবে। এই সাড়ে ৪ লক্ষ কর্মীকে টিকা দেওয়ার কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাকি কর্মীদেরও করোনা টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.