বংনিউজ২৪X৭-এর খবরের জের! স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেল ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা

বংনিউজ২৪X৭-এর খবরের জের! স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেল ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা
বংনিউজ২৪X৭-এর খবরের জের! স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেল ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর পরিবার, পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ বংনিউজ২৪X৭-এর খবরের জেরে অবশেষে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেল ক্যানসার আক্রান্ত এক শিশুর পরিবার। তাঁদের পাশে দাঁড়ালেন এক তৃণমূল নেতা। এর জেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন দরিদ্র এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুটির পরিযায়ী শ্রমিক পিতা বিষ্ণু দাস। এমনিতেই অর্থাভাবে জর্জরিত ছিল এই পরিবারটি। এর মধ্যেই বিষ্ণু দাসের নাবালক ছেলের ক্যানসার ধরা পড়ে।

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার পিপলা গ্রামের বাসিন্দা বিষ্ণু দাস। ছেলের চিকিৎসার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন তিনি, সেই সময় পাশে পাননি কাউকেই। বংনিউজ২৪X৭-এর খবরের জেরে, অবশেষে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন মালদহের জেলা তৃণমূ্লের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান।

করোনা এবং তার জেরে হওয়া লকডাউনের জেরে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকেরা। এই রকমই এক পরিযায়ী শ্রমিক হলেন বিষ্ণু দাস। ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে, ছোটো-খাটো কাজ করে পরিবারের মুখে দু-বেলা দু’মুঠো অন্নের ব্যবস্থা করছিলেন তিনি। সংসারের অভাবের মধ্যেই আরও এক বিপর্যয় নেমে এল আচমকাই। ছেলের ডান কানে ধরা পড়লো ক্যান্সার। এই দুঃসময়ে কীভাবে চিকিৎসা করাবেন তা ভেবেই দিশেহারা অবস্থা হয়েছিল বিষ্ণু দাসের। একে তো অর্থের সমস্যা, তার সঙ্গে আবার নেই স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও।

এমন পরিস্থিতিতে সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন মালদহ জেলা তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান। খবর পাওয়া মাত্রই বিডিও সাহেবের সঙ্গে কথা বলে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর বিডিও অনির্বাণ বসুর তৎপরতায় খুব দ্রুতই স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে পেয়ে যান বিষ্ণু দাস। বুলবুল খান এই পরিবারটির সঙ্গে দেখা করে আর্থিক সাহায্যেরও হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, এছাড়াও ভবিষ্যতে কেমোথেরাপির জন্য যে খরচ হবে, তার দায়িত্বও তিনি বহন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এইদিন তিনি নিজের খরচায়, নিজ দায়িত্বে এই দুঃস্থ পরিবারটিকে মালদহ নিয়ে যান।

মালদহ জেলা শাসকের অফিস থেকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করে দেন। অর্থাভাবের সময় কীভাবে চিকিৎসা করাবেন তা ভেবেই আকুল হয়েছিলেন বিষ্ণু, অবশেষে পরিত্রাতা হয়ে এলেন জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান। শুধু বিষ্ণু দাসই নয়, এলাকার আরও অনেক দরিদ্র, অসহায় মানুষ থেকে শুরু করে পরিযায়ী শ্রমিক বিপদে-আপদে বুলবুল খানকে পাশে পেয়েছে বলেই খবর স্থানীয় সূত্রে খবর। সমগ্র লকডাউনে যথাসম্ভব মানুষের বিপদে-আপদে তাঁদের পাশে থেকেছেন তিনি।

মালদহ জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান জানিয়েছেন, সংবাদমাধ্যমের দ্বারা তিনি খবরটি জানতে পারেন। কয়েকদিনের মধ্যে বিডিও সাহেবের সঙ্গে কথাও বলেন। আজ মালদা ডিএম অফিসে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটা ওই পরিবারের হাতে তুলে দেন। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর তরফ থেকে কিছুটা আর্থিক সাহায্যও করেছেন তিনি। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে ৫ লাখ পর্যন্ত সাহায্যের কথা বলা আছে। এরপর যা যা লাগবে, সেই সব তিনি তাঁর তরফ থেকে যথাসম্ভব চেষ্টা করবেন। কেমোথেরাপির যা খরচ লাগে, সেটাও তিনি দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিষ্ণু দাস জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে বুলবুল খান এসেছিলেন। তাঁর সহায়তায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পেয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসার খরচের ক্ষেত্রেও সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছে। বিষ্ণু দাস মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খানকে পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিডিও অনির্বাণ বসু এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও।

ক্যান্সারের মতো দূরারোগ্য ব্যাধি তাবড় তাবড় লোককে দুর্বল করে দেয় শারীরিকভাবে তো বটেই, সঙ্গে মানসিকভাবেও। সেখানে এই পরিযায়ী শ্রমিকের তো ভেঙ্গে পড়াই স্বাভাবিক। তবে, তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খানের তৎপরতায় অনেকটাই কাজ হয়েছে বিষ্ণু দাসের। বুকে বল ফিরে পেয়েছেন তিনি। ছেলের চিকিৎসার সু-ব্যবস্থার আশ্বাস পেয়েছেন তিনি।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.