কার্টুন দেখার নেশা, বাবার কাছে ফোন চেয়েও না পাওয়ায়, অভিমানে আত্মঘাতী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র!

কার্টুন দেখার নেশা, বাবার কাছে ফোন চেয়েও না পাওয়ায়, অভিমানে আত্মঘাতী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র!
কার্টুন দেখার নেশা, বাবার কাছে ফোন চেয়েও না পাওয়ায়, অভিমানে আত্মঘাতী পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র! / ফাইল ছবি

মালদা: নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কতোই বা বয়স, সবেমাত্র পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু এই বয়সেই অকালে ঝড়ে গেল একটা তরতাজা প্রাণ। তাও এমন একটা কারণে, যা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অন্যদিকে এই ঘটনা ফের একবার মনে করিয়ে দিল যে, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, কার্টুন এইসব কিছু শিশুমনের উপর কতোটা বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

আমরা এমন একটা সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে, সকলের হাতেই সময় খুব কম। বাড়ির ছোটকে দেওয়ার মতো সময় প্রায় থাকে না বললেই চলে। আর চিত্রটা, মধ্যবিত্ত, উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত যেকোনো পরিবারের কম-বেশি একইরকম। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির ছোটরা নিজেদের ব্যস্ত রাখছে মোবাইলে আর ইন্টারনেটে নয়ত টিভিতে। আর যখন সেই চাহিদায় কোনও বাঁধা পড়ছে, তখনই ঘটছে অঘটন। যেমন মালদার এই ঘটনাটা।

ঘটনাটি ঘটেছ পুরাতন মালদা থানার ধুমাদিঘি বাথানি এলাকায়। কার্টুন দেখার জন্য বাবার কাছে মোবাইল চেয়েও না পাওয়ায়, অভিমানে আত্মঘাতী হল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র৷ মৃত ওই ছাত্রের নাম সাজেন হাঁসদা, বয়স ১৩ বছর। এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত সে।

ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে মালদা থানার পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, মালদা থানার ধুমাদিঘি বাথান এলাকায় বসবাসকারী শিবলাল হাঁসদার এক ছেলে ও এক মেয়ে। পেশায় কৃষক শিবলাল হাঁসদা। স্ত্রী পূর্ণিমা সোরেন গৃহবধূ। তাঁদের একমাত্র ছেলে সাজেন হাঁসদা এলাকারই একটি বেসরকারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করত।

বুধবার সন্ধ্যায় জমি থেকে চাষবাসের কাজ সেরে বাড়িতে ফিরে এসে শিবলাল হাঁসদা দেখেন, তাঁর ছেলে পড়াশোনা করছে না। ছেলে বাবার কাছ থেকে কার্টুন দেখার জন্য মোবাইল ফোনের বায়না করে। তখন শিবলাল হাঁসদা ছেলেকে খানিক বকাবকি করেন এবং পড়াশোনায় মন দিতে বলেন। তারপর ছেলে নিজের ঘরে ঢুকে যায়।

এদিকে কিছুক্ষণ পর ছেলেকে ডাকতে গেলে ঘর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পাওয়ায়, পরিবারের সন্দেহ হয়। ঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন যে, ছেলে বিছানায় শুয়ে রয়েছে এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। পরিবারের লোকেরা দেরি না করে, সঙ্গে সঙ্গেই মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাকে। কিছুক্ষণ চিকিৎসা হওয়ার পরই, বৃহস্পতিবার ভোর রাত্রে মৃত্যু হয় তার। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে মৃত ছাত্রের পরিবারে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.