জোট থাকলেও পুর ভোট নিয়ে মতানৈক্য বাম-কংগ্রেসের

জোট থাকলেও পুর ভোট নিয়ে মতানৈক্য বাম-কংগ্রেসের
জোট থাকলেও পুর ভোট নিয়ে মতানৈক্য বাম-কংগ্রেসের

ফের একবার প্রকাশ্যে এল বাম কংগ্রেসের জোটের জট। বামফ্রন্টের তরফ থেকে মঙ্গলবাড়ই দ্রুত পুরভোট করানোর দাবি করে রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এদিকে বুধবার বিধান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এখনই পুরভোট না করানোর দাবি জানালেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

রাজ্যের একাধিক পুরসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও করোনা আবহে সে সমস্ত জায়গায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। তাই এখন সংক্রমণ খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসছে পুরভোট করানোর দাবি তুলছে রাজনৈতিক দলগুলি। তবে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনই পুরভোট চাইছে না কংগ্রেস। এ প্রসঙ্গে এদিন অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানান, “মানুষের জীবন নিয়ে যেন কোন ছিনিমিনি খেলা না হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে তারপরেই ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।” তার মতে, ভোট হলেও দেশ থাকবে এবং ভোট না হলেও দেশ থাকবে। ভোট আসবে যাবে। এই মুহূর্তে ভোট করিয়ে সংক্রমণ আবার যেন না বাড়ে সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি।

এদিকে মঙ্গলবার বামফ্রন্টের তরফের রাজ্যের ১২৫টি পুরসভার মধ্যে ছটি কর্পোরেশন দুটি নোটিফাইড এরিয়া সহ ১১২ টি পুরঅঞ্চলে দ্রুত পুরভোট করানোর দাবি করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অধীর বাবু জানান, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে। তাই সকলের কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া যেন কোনোভাবেই ভোট করানো না হয়। পাশাপাশি তিনি বিধানসভা ভোটে প্রসঙ্গ টেনে জানান সেই সময় যেভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছিল সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে পুরভোট করিয়ে আবার ঘটানো না হয়।

বিধানসভা নির্বাচনের সময় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছরে পড়েছিল। সংক্রমণ বেড়েছিল দৈনিক হিসেবে প্রায় কুড়ি হাজার। এরপরে কার্যত লকডাউনের পথে হেঁটে সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। তাই এই অবস্থা এখনই ভোট করাতে চাইছে না কংগ্রেস। এদিকে জোট এখনো ভাঙেনি, তার আগেই পুর ভোট নিয়ে বাম-কংগ্রেসের মধ্যে এরকম মতানৈক্যে নজর পড়ছে রাজনৈতিক মহলের।