কসবা কাণ্ডে ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও তথ্যই ছিল না পুরসভার কাছে

কসবা কাণ্ডে ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও তথ্যই ছিল না পুরসভার কাছে
কসবা কাণ্ডে ভুয়ো ভ্যাকসিন নিয়ে কোনও তথ্যই ছিল না পুরসভার কাছে

কসবা এলাকায় বহু মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিন্তু তাদের কাছে কোন মেসেজ বা তথ্য কিছুই দেওয়া হয়নি। কসবা ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ডের সদস্য ও বিধায়ক অতীন ঘোষ। একইসঙ্গে তিনি জানান, রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার এবং কলকাতা পুরসভা ছাড়া ভ্যাকসিনের কোন বিষয়ে বাইরের কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।

অতীন বাবু এদিন জানান, “ভ্যাকসিনের নিয়মে কোথাও বলা নেই কেউ ভ্যাক্সিনেশন ক‍্যাম্প করলে তাকে কলকাতার পৌরসভার অনুমতি নিতে হবে।যারা ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন তারা কখনোই কলকাতা পৌরসভা কে জানাই নি। অতএব যারা নিয়েছেন এই ভ্যাকসিন দায় তাদের।”

এদিকে ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্পে কি ধরনের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে তাই নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অতীন বাবু জানিয়েছেন, “ভ্যাকসিনের মধ্যে আদৌ কি ছিল। সেটা ল্যাবরেটরীতে পাঠানো হয়েছে। সেই তথ্য আসলে পুরোটা জানা যাবে। আসলে এই ভ্যাকসিনের মধ্যে কি কি রয়েছে”। পাশাপশি এ ধরনের ভুয়ো ভ্যাকসিন ক্যাম্প চলছিল বলেও কলকাতা পুরসভার কাছে কোনও খবর ছিল না বলেই দাবি করেন তিনি।

এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে অতীন ঘোষ বলেন, “যাঁদের শিক্ষা অতি নগন্য তাঁরাও জানেন যে ভ্যাকসিন নিতে গেলে তাঁকে প্রথম রেজিস্ট্রেশন করাতে হয়। রেজিস্ট্রেশন করাতে গেলে আধার, প্যান অথবা ভোটার আইডি কার্ড লাগে। রেজিস্ট্রেশন করলে আপনি ভ্যাকসিন নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কনফার্ম করার জন্য আপনার মোবাইলে মেসেজ আসে। এইটা জানার পরেও প্রতারকের কাছ থেকে যাঁরা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাঁরা সব শহরের শিক্ষিত মানুষ। কসবায় যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা সব শিক্ষিত মানুষ। এই শিক্ষিত মানুষগুলো ভ্যাকসিন নেওয়ার পর দীর্ঘদিন কোনও মেসেজ পাননি। কোনও সার্টিফিকেট পাননি। তার পরেও কোনও অথরিটির কাছে অভিযোগ জানাননি।”

এদিকে কসবা কান্ড প্রকাশ্যে আসতেই, পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই প্রসঙ্গে অতীন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গোটা ঘটনায় পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেই না। কারণ, ভ্যাকসিনেশন পলিসির কোন জায়গায় বলা নেই যে, “কেউ যদি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প করেন তাকে কলকাতা পুরসভার অনুমতি নিতে হবে। পুরসভা অনুমতি দেওয়ার মালিক নন। যদি কেউ বলে থাকেন পুরসভা মালিক, তিনি আইনটা খুলে দেখিয়ে দিন।” উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা শাখা।