মানুষের ফেলে যাওয়া একদিনের শিশুকন্যাকে সামলে রাখল, পথ কুকুর!

মানুষের ফেলে যাওয়া একদিনের শিশুকন্যাকে সামলে রাখল, পথ কুকুর!
মানুষের ফেলে যাওয়া একদিনের শিশুকন্যাকে সামলে রাখল, পথ কুকুর!

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ মেয়েরা আজ কোনও অংশে পিছিয়ে নেই, পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের প্রতিটা ক্ষেত্রে, নিজেদের অবদান রেখে চলেছে। কি ঘরে, কি বাইরে নারী অনন্যা। নারী দশভুজা।

দেশ চালানো, যুদ্ধ বিমান চালানো, রাজনীতির অন্দরে অবাধ বিচরণ, বিজ্ঞান, সাহিত্য, গবেষণা, শিল্প এমন কোনও ক্ষেত্র নেই, যেখানে নারী তাঁর সাফল্যের পদচিহ্ন রাখেনি। নতুন প্রাণের সৃষ্টি, তাও তো নারীরই দান। তবুও প্রতি মুহূর্তে নারীকে ধর্ষিতা, লাঞ্ছিতা হতে হয়। পুরুষের মিথ্যে দম্ভের কাছে পদদলিত হয়, নারীর মর্যাদা। তাই তো আজও কন্যাসন্তান জন্মানোকে চরম দুর্ভাগ্য বলে মনে করা হয়।

নয় জম্মের আগেই মাতৃগর্ভে তাঁর বাঁচার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়, কোথাও আবার জন্ম দিলেও, ফেলে রেখে চলে যায়, জন্মদাত্রী বাবা-মা। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও, এই চিত্রটার তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে এখনও কিছু ভালো মানুষও আছেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে, যারা বিশ্বাস করেন, নারীপুরুষ সমান সমান।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে, কন্যাসন্তানের প্রতি অনীহার এক উদাহরণ ফের প্রকাশ্যে এল, তাও দেবীপক্ষের মধ্যে। যখন সারা বাংলায় মা উমার ঘরে আগমনের খুশিতে মাতয়ারা মানুষ। চতুর্থীর সন্ধে, চারিদিকে মা-এর পুজোর প্রস্তুতি তখন তুঙ্গে। এমন একটা খুশির দিনে, রাস্তায় পড়ে কাঁদছে সদ্যোজাত। আর তাঁকে আগলে রেখেছে একদল পথ কুকুর। তাহলেই ভাবুন, যাকে মানুষ ফেলে রেখে গেল, কিছু না ভেবেই, তাকে কিনা পরম যত্নে, আগলে রেখেছে কিছু অবলা জীব। এই অবলা জীবরাও বোঝে মায়া কি জিনিস! আর পৃথিবীর সবথেকে উন্নত এবং শ্রেষ্ঠ জীব বলে পরিচিত মানুষই তা বুঝতে পারল না!

এক নেটিজেন বাচ্চাটির ছবি-সহ গোটা ঘটনাটি সোশ্যাল সাইটে পোস্ট করেছেন। তিনি লিখছেন যে, সন্ধে সাড়ে ৭ টা নাগাদ তাঁর মাসির ফোন আসে, তিনি বলেন, ‘একটা রত্ন পেয়েছি, পরে সব জানাচ্ছি, আগে তার ব্যবস্থা করি।’

এরপর তিনি আবার লিখছেন, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ফের তিনি তাঁর মাসিকে ফোন করেন, আসল ঘটনা জানতে। তিনি জানতে পারেন যে, তাঁর মাসি বাজারে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ গলির মোড়ে একটা কান্নার আওয়াজ পান। এগিয়ে যেতেই চোখে পরে, ফুলের মত একটি শিশু পড়ে রয়েছে রাস্তায়। কয়েকটা কুকুর মিলে আগলে রেখেছিল শিশুটিকে।

জানা গিয়েছে, বাচ্চাটিকে উদ্ধার করার পর, সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলে ওই সদ্যোজাত শিশুকন্যা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মাত্র ১ দিন বয়স ওই শিশুর। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা তথ্য অনুযায়ী, জানা যাচ্ছে, আজ বাচ্চাটিকে বারাসাতের একটি হোমে পাঠানো হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, যদি কোনও সহৃদয় মানুষ এই শিশুটির দায়িত্ব নিতে চান, সেক্ষেত্রে হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে, বাচ্চাটিকে নিতে পারেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.