তৃণমূলের সার্বিক জয়ের কৃতিত্ব মমতাকেই দিচ্ছেন দলের নেতারা!

তৃণমূলের সার্বিক জয়ের কৃতিত্ব মমতাকেই দিচ্ছেন দলের নেতারা!
তৃণমূলের সার্বিক জয়ের কৃতিত্ব মমতাকেই দিচ্ছেন দলের নেতারা!

একুশের নির্বাচনে শেষ হাসি হাসলো তৃণমূল। তৃতীয় বারের জন্য সরকার গড়ল ঘাসফুল শিবির। আর এবারে নির্বাচনে জিতেই প্রতিপক্ষদের কটাক্ষ করতে দেরি করলেননা দলীয় নেতা মন্ত্রীরা। সাংসদ থেকে প্রার্থী সকলেই কমবেশি একহাত নিলেন বিজেপিকে।

এবারের নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ছিল টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র। এখানে একদিকে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। অন্যদিকে তৃণমূল দাঁড় করিয়েছিল এলাকার ছেলে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে। এদিন ভোট গণনা শুরু হতে প্রথম দিকে বাবুল সুপ্রিয় এগিয়ে গেলেও পড়ে দেখা যায় অরূপ বিশ্বাস অনেক ব্যবধানে এগোতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ১,০১,৪৪০ ভোট পান অরূপ বাবু। এদিকে বাবুল সুপ্রিয়র প্রাপ্য ভোট ৫১,৩৬০টি।

এর পরেই অরূপ বিশ্বাস বলেন, “৪৫ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছি। এই জয় টালিগঞ্জের উন্নয়নের জয়। আমার কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিল। এই জয় টালিগঞ্জবাসীকে উৎসর্গ করলাম। টালিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী অরূপ স্বরূপ করতেই ব্যস্ত ছিলেন। মানুষের কথা বোঝেননি। টালিগঞ্জের মানুষ দুই থাপ্পড় মেরে হারিয়ে দিয়েছে।”

এদিকে, তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন এই ফলাফল অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। তিনি বলেন, “মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে রয়েছেন। তিনি যে পরিশ্রম করেছেন, তার ওপরে যে আক্রমণ, বাংলার মানুষের ওপর যে আক্রমণ, সম্মিলিতভাবে বাংলার মানুষ তারই প্রতিবাদ করেছেন।”

পার্থ বাবুর কটাক্ষ, “নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বারংবার রাজ্যে আসার ঘটনাকে মোটেও নেননি অনেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ যাকে বলছেন ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারি’। বিজেপির তরফে কেন্দ্রের মন্ত্রী, সাংসদ, অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা এসেছেন। কিন্তু সব কিছুরই তো শেষ আছে। আমাদের ভাষা উন্নয়নের ভাষা। একতার ভাষা।”

এবারের নির্বাচনে দলের বরিষ্ঠ সাংসদ সৌগত রায় না দাঁড়ালেও একাধিক প্রার্থীর হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এদিন দলের সার্বিক জয়ের পর সৌগত বাবু বলেন, “এই জয় আমাদের প্রার্থীদের জয় ,মমতা ব্যানার্জীর জয়। এই জয়ের জন্য কৃতিত্ব দেব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ এই ফলাফলে আমি খুব আনন্দিত। বাংলা নিজের মেয়েকে চায় তা প্রমাণ হল”।

এরপরেই কটাক্ষ করে সৌগত রায় বলেন, “ওরা তো বর্গী। বিজয় বর্গী থেকে নরেন্দ্র বর্গী। বর্গীদের আক্রমণ সহ্য করেনি বাংলার মানুষ। দিদি দিদি ডাকের পাল্টা দিয়েছেন বাংলার মানুষ।” একইসঙ্গে এদিন দল বদলুদের উদ্দেশ্যেও বার্তা দেন তিনি।বলেন, “বিশ্বাসঘাতকদের আর কেউ মনে রাখবে না। মমতা ব্যানার্জির সাথে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেন তাদের বাংলার মানুষ মেনে নেয় না তা প্রমাণ দিল বাংলার মানুষই”।