ইচ্ছেশক্তির জয়! রাতপ্রহরী থেকে সিধে IIM প্রফেসর হয়ে উঠলেন বছর আঠাশের এই ব্যক্তি!

ইচ্ছেশক্তির জয়! রাতপ্রহরী থেকে সিধে IIM প্রফেসর হয়ে উঠলেন বছর আঠাশের এই ব্যক্তি! /
ইচ্ছেশক্তির জয়! রাতপ্রহরী থেকে সিধে IIM প্রফেসর হয়ে উঠলেন বছর আঠাশের এই ব্যক্তি!

ছিলেন সামান্য এক রাত প্রহরী। সেখান থেকে সিধে হয়ে উঠলেন IIM-এর এক সহকারী অধ্যাপক! কি? ঠিক যেন কোনও সিনেমার স্ক্রিপ্ট? নাহ! এ এক বাস্তব কাহিনী! আর সেই কাহিনীর নায়ক ২৮ বছর বয়সী রঞ্জিত রামচন্দ্রন। শুধুমাত্র ইচ্ছাশক্তির জোরেই নাইট ওয়াচম্যান থেকে দেশের অন্যতম বিখ্যাত ইনস্টিটিউটের অধ্যাপনার ভার যাঁর কাঁধে।

রামচন্দ্রনের বাবা একজন দর্জি। মা, মহাত্মা গান্ধী জাতীয় পল্লী কর্মসংস্থান গ্যারান্টি স্কিমের অধীনে একটি দৈনিক মজুরি শ্রমিক। আর্থিক সঙ্কটের কারণে প্রায়শই বিদ্যালয়ের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হত তাঁকে। সংসারের হাল ধরতে কসারাগোড়ের পানাথুরে একটি বিএসএনএল টেলিফোন এক্সচেঞ্জে রাত প্রহরী হিসাবে কাজে নিযুক্ত হন তিনি। পাশাপাশি জেলার একটি কলেজ থেকে অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনাও চলছিল তাঁর। তিনি দিনের বেলা কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং রাতে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাজ চালিয়ে যেতেন। এভাবেই চলত তাঁর রোজনামচা।

অর্থনীতিতে স্নাতক হওয়ার পরই মাদ্রাজের আইআইটিতে ভর্তি হন রঞ্জিত। কিন্তু তিনি কেবল মালায়ালাম জানতেন বলে সেখানে পড়াশোনা করতে বেশ অসুবিধাতে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। হতাশ হয়ে তিনি পিএইচডি প্রোগ্রামটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে গাইড ডাঃ সুভাষ তাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে রাজি করান। এরপর ইচ্ছাশক্তির জোরেই লড়াই চালিয়ে যান রঞ্জিত৷ অবশেষে সব বিপত্তি কাটিয়ে গত বছর ডক্টরেট অর্জন করেন তিনি। গত দুই মাস ধরে তিনি বেঙ্গালুরুতে খ্রিস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। এরপর সিধে আইআইএমের সহকারী অধ্যাপক হওয়ার ডাক আসে।

সম্প্রতি নিজের এই জার্নির কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন রঞ্জিত। তারপরই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের শুভেচ্ছা বার্তাতে ভরে ওঠে সেই পোস্ট। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী টিএম টমাস আইজ্যাক স্বয়ং রামচন্দ্রনকে অভিনন্দন জানান। এমনকি তাঁকে ‘রঞ্জিত আর পানথুর’ নামে অভিহিত করে বলেন যে তিনি সকলের অনুপ্রেরণার উৎস। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “রঞ্জিতের মতো মানুষেরা, যারা বিভিন্ন সঙ্কটের মধ্যেও ভেঙে পড়েন না এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে উঠতে শিক্ষাকে একটি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেন, তাঁরা সকলের জন্য অনুপ্রেরণা।”

নেটমাধ্যমে এত সাড়া পেয়ে রঞ্জিত নিজেও বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি জানিয়েছেন, “আমি কখনও ভাবিনি যে পোস্টটি ভাইরাল হবে। আমি আমার জীবনের গল্পটি পোস্ট করেছিলাম, এই আশায় যে এটি আরও কয়েকজনকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি চাই সবাই ভালো স্বপ্ন দেখুক এবং তাদের স্বপ্নের জন্য লড়াই করুক। আমি চাই অন্য মানুষও এ থেকে অনুপ্রাণিত হন এবং সাফল্য পান।” সত্যিই তো! আগামীর লড়াইয়ে রঞ্জিতের মতো মানুষদের দেখেই তো স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাবে দেশের যুব সমাজ। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অনুপ্রেরণার আরেক নাম যেন রঞ্জিত রামচন্দ্রন। তাঁর আগামীর জন্য অশেষ শুভকামনা।