দ্বিতীয় দফার নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ! এমনই বললেন রাজ‍্য মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ! এমনই বললেন রাজ‍্য মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব
দ্বিতীয় দফার নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ! এমনই বললেন রাজ‍্য মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাব / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ আজ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট ছিল। আজ রাজ্যের চার জেলায় মোট ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, তমলুক, হলদিয়া, মহিষাদল, পাঁশকুড়া-পূর্ব, পাঁশকুড়া-পশ্চিম, ময়না, নন্দকুমার, চণ্ডীপুরের ভোট। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর, চন্দ্রকোনা, ঘাটাল, দাসপুর, খড়গপুর, ডেবরা, পিংলা, সবং, নারায়ণগড়ে ভোটগ্রহণ। বাঁকুড়ার তালডাংরা, বাঁকুড়া, বড়জোড়া, ওন্দা, বিষ্ণুপুর, কোতুলপুর, ইন্দাস, সোনামুখীতে নির্বাচন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, পাথরপ্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগরেও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেছেন যে, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তবে, দ্বিতীয় দফায়ও ভোট শান্তিপূর্ণই হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেছেন যে, দ্বিতীয় দফার ভোটে মোট ১৬০৫ টি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে এসেছে।

আজ কেশপুরে উত্তম দোলাই নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ১ নম্বর ব্লকের পূর্ব ভেকুটিয়ায় এক বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। মৃত ওই বিজেপি কর্মীর নাম উদয়শঙ্কর দুবে। অভিযোগ, বুধবার রাতেও রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তিকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তদন্ত করে দেখছে নির্বাচন কমিশন। তবে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, আত্মহত্যা করেছেন ওই বিজেপি কর্মী।

অন্যদিকে আজ কেশপুরে প্রার্থীসহ আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন অশান্তির জেরে। চারটে গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। এই ঘটনায় মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ এবং বাকি ১৪ জন মহিলা।

আজ নন্দীগ্রামে বেশ কিছু বুথে অশান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়। আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের বয়াল বুথ কেন্দ্র গিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে আটকে থাকতে হয় প্রায় ২ ঘণ্টা। অবশেষে বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে বিক্ষোভমুক্ত করে বাইরে বের করে আনতে সক্ষম হয়। এরপরই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন যে, ‘আমি আমার জেতা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নই। আমি নন্দীগ্রামে জিতবই মা-মাটি-মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে, কিন্তু আমি চিন্তিত গণতন্ত্র নিয়ে।’

উল্লেখ্য, ২ ঘণ্টার মতো সময় তাঁকে আটকে থাকতে হয়। এরপর বয়াল বুথ থেকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে আনা হয়, তখন অনেকেরই ধারণা হয়েছিল যে, তিনি রেয়াপাড়ায় নিজের অস্থায়ী ঠিকানাতেই ফিরে যাবেন। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি। বিক্ষোভ মুক্ত হওয়ার পরই তিনি নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন যে, ‘এখানে যে বিজেপির প্রার্থী হয়েছে, তিনি কাল রাত থেকেই সন্ত্রাস করে বেড়াচ্ছেন এলাকায়। এখানে ভোটে চিটিংবাজি হয়েছে।’

এরপরই ধনখড় ট্যুইটে লেখেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ নির্দিষ্ট জায়গায় জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে আইনের শাসন রাখার আশ্বাস মিলেছে। গণতন্ত্র অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, আজ কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্ত অশান্তি হলেও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে নির্বাচন কমিশন সিকিউরিটি পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ মুখ্যমন্ত্রী এও অভিযোগ করেন যে, কিছু কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটারদের কাছে ভোটার কার্ড দেখতে চেয়েছে। না থাকলে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছে। তিনি এও বলেন যে, কোনো সচিত্র পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোট দেওয়া যায়। তিনি প্রশ্ন করেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কি আদৌ ভোটারদের পরিচয় পত্র দেখার অধিকার আছে?  আফতাব বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, যা নিয়মবিধি রয়েছে সেটাই করা হয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.