করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে কী বলছে ICMR-এর সমীক্ষা?

করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে কী বলছে ICMR-এর সমীক্ষা?
করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে কী বলছে ICMR-এর সমীক্ষা? / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব এখন শেষ পর্যায়ে। এর মধ্যেই করোনার তৃতীয় ঢেউ-এর কথাও শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, প্রতি মুহূর্তে করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে সাবাধান করা হচ্ছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যাতে আবারও দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার অবস্থা না হয়, এবং তৃতীয় ঢেউ যাতে মারাত্মক আকার ধারণ না করে, সেই কারণেই কেন্দ্র সরকার টিকাকরণের উপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করছে।

তবে, ICMR-এর সাম্প্রতিকের এক সমীক্ষা অন্য দাবি করছে। ICMR-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, করোনার তৃতীয় ঢেউ দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো অতোটাও মারাত্মক হবে না। সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্র হওয়ার সম্ভবনা কম। তবে, আবশ্যিকভাবে ভ্যাকসিন নিতে হবে। এই মুহুরতে করোনা পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আরও বেশি মাত্রায় দেশে টিকাকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি গাণিতিক মডেলিং ভিত্তিক বিশ্লেষণ শীর্ষক এই গবেষণাটি শুক্রবার পিয়ার-রিভিউড ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিকেল রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছিল।

ICMR-এর গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, টিকাকরণ বাড়ানো হলে, তা আগামী দিনে করোনার প্রকোপ প্রশমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের তীব্রতা কম হলেও, করোনা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় হয়ে উঠতে পারে টিকাকরণ।

সমীক্ষা থেকে এও জানা গিয়েছে যে, করোনার নতুন স্ট্রেন কোনও নতুন তরঙ্গের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, যদি না সেটি কোনও পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে এসে থাকে। আরও একটি সংক্রমণযোগ্য স্ট্রেন তৃতীয় তরঙ্গের কারণ হতে গেলে প্রজনন সংখ্যার প্রান্তিক পার হতে হবে ৪.৫।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে যে, টিকা দেওয়ার গতি বেশি হলে, তা ভবিষ্যতের করোনার তরঙ্গ প্রশমিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি করোনাবিধি গুরুত্ব সহকারে পালন করার উপরেও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার তৃতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর না হলেও, একে হালকাভাবে নিতে বারণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ICMR-এর সাম্প্রতিকের এই সমীক্ষা করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেই একই আশ্বাস দিয়েছেন AIIMS প্রধান ডা. রণদীপ গুলেরিয়াও। শনিবার এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের থেকেও তৃতীয় ঢেউ বেশি বিপজ্জনক হবে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। আমি মনে করি, আগামী ঢেউ দ্বিতীয়টির মতো অতটা ভয়াবহ হবে না।’ সেই সঙ্গে তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা প্রসঙ্গে এইমস প্রধান বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউ থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। আর সেইমতো প্রস্তুতি নিতে হবে সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করার।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সমীক্ষায় করোনার তৃতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর হবে না বলে দাবি করা হলেও, আগে থেকেই এর জন্য সবরকম সতর্কতা নিচ্ছে কেন্দ্র। তাছাড়া ইতিমধ্যেই ক্রমশ বিস্তার ঘটছে করোনা ভাইরাসের উন্নত এবং সর্বশেষ ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট। ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনার ডেল্টা প্লাস ভ্যারিয়েন্ট। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে মোট ৫১টি কেস।

সূত্রের খবর, মধ্যপ্রদেশে করোনার নতুন এই প্রজাতির কবলে পড়েছেন বেশ কিছু রোগী। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। মহারাষ্ট্রেও নতুন করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার আটটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন তৈরির নির্দেশ দিল কেন্দ্র। এর পাশাপাশি সেখানকার জেলাগুলিতে কোভিড-১৯ পরীক্ষা এবং টিকাকরণ জোরদার করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ জানান যে, তামিলনাড়ু, রাজস্থান, কর্ণাটক, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট, হরিয়ানা সরকারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই চিঠি গিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের কাছেও। এইসব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই নির্দেশিকা কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আক্রান্তদের নমুনাগুলো INSACOG মনোনীত গবেষণাগারেও পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।