যমজ এই দুই সিভিক পুলিশকে নিয়ে ধন্দে শান্তিপুর থানা! কিন্তু কেন?

যমজ এই দুই সিভিক পুলিশকে নিয়ে ধন্দে শান্তিপুর থানা! কিন্তু কেন?
যমজ এই দুই সিভিক পুলিশকে নিয়ে ধন্দে শান্তিপুর থানা! কিন্তু কেন? / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ নদিয়াঃ মলয় দেঃ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শান্তিপুর থানায় সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজ পেল শান্তিপুর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চড়কতলা এলাকার একই পরিবারের দুই জমজ যুবক। উল্লেখ্য ২০১৮ সালে জল তরঙ্গ ফেস্টিভাল ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল শান্তিপুরের জিআই রিজাভ ক্লাব, সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শান্তিপুর জিআইএফ ক্লাব। এছাড়াও শান্তিপুর নতুনপাড়া অভিযাত্রী সংঘ ক্লাবের পক্ষ থেকেও এই জল তরঙ্গ ফেস্টিভেল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল ভলিবল টিম। সেই প্রতিযোগিতায় তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯ সালের ১০ ই জানুয়ারি কৃষ্ণনগরে জেলা সফরে এসে শান্তিপুর থেকে মোট ২১ জন ভলিবল ও ফুটবল খেলোয়াড়দের সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী ২০২১ সালের ১০ ই জানুয়ারি রানাঘাট ছাতিমতলার মাঠে জেলা সফরে এসে সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১ জন খেলোয়াড়দের সিভিক ভলেন্টিয়ার রিক্রুটমেন্ট করেন। আর এই প্রক্রিয়া রানাঘাট জেলা পুলিশ সুপার অনন্ত নাগের অফিসে শেষ হয়েছে।

সে মতই ২০২১ সালের ১০ ই জানুয়ারি থেকেই শান্তিপুর থানায় ২১ জন সিভিক ভলেন্টিয়ার তাদের কর্ম জীবন শুরু করে। যার মধ্যে শান্তিপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের চড়কতলা এলাকার একই পরিবারের দুই জমজ যুবক রয়েছে। এ বিষয়ে ওই দুইজন জমজ যুবক জানান, তারা পড়াশুনো থেকে শুরু করে খেলাধুলা সবটাই ছোট্ট বয়স থেকে একই সাথে করে আসছে। বাবা স্বদেশ বৈষ্ণব ও তাদের মা খেলাধুলার বিষয়ে খুবই উৎসাহিত করতেন। দুই জমজ যুবকের মধ্যে বড়ো দীপঙ্কর বিশ্বাস, ছোট শুভঙ্কর বৈষ্ণব, তাঁদের বয়স ২২ বছর। হুবহু একই রকম দেখতে হওয়ার কারণে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের কোনো অসুবিধা না হলেও, বর্তমানে শান্তিপুর থানাতেও তাদের কর্মজীবনে অনেকটাই অসুবিধা হচ্ছে আপাতত!

শান্তিপুর থানার বিভিন্ন অফিসারদের বোঝার সুবিধার্থে বড় ভাই দীপঙ্করের ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি না কাটার নির্দেশ আপাতত। তবে পুলিশকর্মীরা খুবই আনন্দিত দুই ভাইয়ের শান্ত স্বভাবের জন্য। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওই দুই যুবক জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজ পাওয়াতে তারা খুবই খুশি। এই সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজ পাওয়াতে তারা তাদের খেলাধুলার ইচ্ছে আকাঙ্ক্ষা আরো অনেকটাই এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।

উল্লেখ্য আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের দুই ছেলে সিভিক ভলেন্টিয়ার এর কাজ পাওয়াতে অনেকটাই অভাব অনটন মিটিবে বলেও জানান ওই দুই জমজ যুবক। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে তাদের পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনেক সাধুবাদ জানিয়েছে ওই দুই জমজ যুবক। তারা এও জানান যারা নবপ্রজন্ম শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মধ্যে জড়িত আছে তারা এগিয়ে চলুক কে জানে হয়তো আগামী দিনে তাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।