সামনেই দোল উৎসব ও ভোট! ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত শান্তিপুরের মহিলারা

সামনেই দোল উৎসব ও ভোট! ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত শান্তিপুরের মহিলারা
সামনেই দোল উৎসব ও ভোট! ভেষজ আবির তৈরিতে ব্যস্ত শান্তিপুরের মহিলারা / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদনঃ নদিয়াঃ মলয় দেঃ পাহাড়ি গাছ মঞ্জিষ্ঠার শিকড় থেকে লাল রং, তুঁতে গাছ থেকে নীল রং, সিম, শসা সহ নানান পাতা থেকে সবুজ রং, কমলালেবুর খোসা থেকে গেরুয়া, গাঁদা ফুল থেকে হলুদ রং, পুঁই মেটুলি থেকে রানী, এভাবেই মূল দশটি রং ভুট্টার এরারুটের মিশ্রণে তারতম্য ঘটিয়ে হালকা গাঢ় আরও দশটি রং উপস্থাপিত করে ভেষজ আবির উৎপাদন করে চলেছেন মঞ্জুরি এস এইচ জি মহিলা গোষ্ঠী। বাঙালির দোল পর্ব চলে প্রায় একদেড় মাস যাবৎ! তারপর রয়েছে আবার ভোটের ফলাফল। তাই মঞ্জুরি মহিলা গোষ্ঠীর ন’জন সদস্যা বাড়ির সাংসারিক কাজকর্ম সেরে দুপুর দুটোর মধ্যে চলে আসেন শান্তিপুর দত্তপাড়ার কৃষাণ স্বরাজ সমিতির অফিসে।

সংগঠনের শান্তিপুরের দায়িত্বে থাকা শৈলেন চন্ডী জানান, শিশু থেকে বৃদ্ধ এ আবিরে ক্ষতি হয়না কারো! চোখে গেলে বা খেয়ে ফেললেও শিশুদের কিছু যায় আসে না! তাই মা-বাবা থাকেন নিশ্চিন্ত! ২০০ টাকা কেজি দরে দাম একটু বেশি বটে, তবে বাজারচলতি চকের গুঁড়োর সাথে কেমিক্যাল মেশানো হাবিব এর ক্ষতিকারক দিকের থেকে অনেকটাই ভালো।

এবিষয়ে মঞ্জুরি মহিলা গোষ্ঠীর সদস্যা ঝুমা দাস (গৃহবধূ) জানান, সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সুতো পাকানোর কাজ বেছে নিয়েছিলেন। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে শম্পা আচার্য্য পাওয়ার লুম বুনতেন স্বামীর সাথেই। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পরিচিত শৈলেন বাবু দ্বারস্থ হন। শৈলেন বাবু শুরু করেন মহিলাদের দিয়ে সাবান, শ্যাম্পু, শীতকালীন বডি লোশন তৈরির অবৈতনিক প্রশিক্ষণ শিবির। তাই দেখা দেখি আরো বেশকিছু গৃহবধূ আসেন, হাতের কাজ শিখতে! উল্লেখ্য দেবারতী চন্ডী দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী, শ্রেয়া প্রামানিক এম এ দ্বিতীয় বর্ষ, শ্রাবণী প্রামানিকের মতো বেশকিছু ছাত্রীও স্বাবলম্বী হওয়ার তাগিদে কাজে হাত লাগান পড়শী দিদি কাকিমাদের সাথে।

তারপর তৈরি জিনিস আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু বান্ধবীদের কাছে খুচরো দামে বিক্রি করে তা থেকে বাড়তি লাভ মেলে তাদের। উৎপাদন বেশি হয়ে গেলে শৈলেন বাবু সরকারি বিভিন্ন মেলায়, এবং জেলার বিভিন্ন হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বিভাগের মাধ্যমে বিপণনের ব্যবস্থা করে দেন। সংগঠনের মহিলা সভানেত্রী সোমা মুখার্জি জানান, পেশার শিক্ষকতা, এবং সংসারের দায়িত্বের চাপে সৃজনশীলতা ভুলে গিয়েছিলেন! ছেলে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার পর আবার নতুন করে বাঁচতে শেখেন এদের নিয়ে, নিজেকে খুব গর্বিত মনে করেন এতগুলো মেয়ের পরিবারের দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাতে পারছে দেখে! আগামীতে অনেক স্বপ্ন আছে, বাঁচতে হবে অনেক বছর!

এছাড়া তিনি বলেন, ওরাও প্রত্যেকে এ ধরনের ছোট ছোট কারখানা গড়ে তুলবে, তখনই পূরণ হবে স্বপ্ন। কলেজ পড়ুয়া ছাত্ররা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে অনেক মানুষ ভেষজ সাবান শ্যাম্পু কিনতে যোগাযোগ করেছেন। শৈলেন বাবু সেগুলো অর্ডার অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসে পৌঁছান! এখন থেকেই আবীরের যে অর্ডার পড়ছে, তাতে সঞ্চয় বোধহয় আর হবেনা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.