আগে পড়াশোনা, পরে বিয়ে! কনের সাজে বসেই কলেজের পরীক্ষা দিলেন এই তরুণী

আগে পড়াশোনা, পরে বিয়ে! কনের সাজে বসেই কলেজের পরীক্ষা দিলেন এই তরুণী
আগে পড়াশোনা, পরে বিয়ে! কনের সাজে বসেই কলেজের পরীক্ষা দিলেন এই তরুণী

পরনে লাল টুকটুকে ঘাঘরা চোলি, গা ভর্তি গয়না, হাতে মেহেন্দি! এক্কেবারে নতুন কনের সাজে বসেই কলেজের পরীক্ষা দিলেন এক তরুণী। কারণ, বিয়ের লগ্ন পেরিয়ে গেলে ফের পরের লগ্নে বিয়ে করা সম্ভব। কিন্তু পরীক্ষার সময় পেরিয়ে গেলে আর পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। অতঃপর, আগে পরীক্ষা, পরে বিয়ে! তাই কনের বেশেই তরুণীকে ছুটতে হল পরীক্ষা কেন্দ্রে। তিন ঘণ্টা পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে যোগ দিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে।

ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে। সেখানে শান্তি নিকেতন কলেজের ব্যাচেলার অফ সোশ্যাল ওয়ার্ক (বিএসডব্লিউ) ছাত্রী শিবাঙ্গীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল তাঁরই সহপাঠীর সঙ্গে। হবু স্বামীও একই বিষয় নিয়ে একই কলেজে পাঠরত। এদিকে বিয়ের দিনই কলেজের পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষা পড়ে। ফলে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই কলেজে গিয়ে পরীক্ষা দেন শিবাঙ্গী।

এই ঘটনার ভিডিও এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপরই কেউ কেউ শিবাঙ্গীকে কটাক্ষ করে বলেছেন ‘এতটা বাড়াবাড়ি না করলেই নয়! শিবাঙ্গীর ইচ্ছে অতিরঞ্জিত!’ যদিও অধিকাংশ নেটিজেনই শিবাঙ্গীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিন্দুকদের কথায় কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পড়াশোনার জন্য শিবাঙ্গীর এই প্রয়াসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু জন। যে দেশে বিয়ের জন্য পড়াশোনাকে জলাঞ্জলি দিতে বাধ্য হয় বহু মেয়ে, সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছেন নেটিজেনরা।

অন্যদিকে, সময় মতো পরীক্ষা দিতে পেরে শিবাঙ্গী অবশ্য নিজেও খুশি। সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “আমার কাছে আর কোনও উপায় ছিল না। আমাদের বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাওয়ার পরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষিত হয়। ফলে বিয়ের দিনটি আর বাতিল করা সম্ভব ছিল না। এদিকে বিয়ের দিন সকাল থেকেই পাত্রীর বাড়িতে প্রথা মতো নানা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। সেখানে আমাকে অংশ নিতে হয়েছিল। তাই বিয়ের পোশাক পরেই পরীক্ষা দিয়েছি।” শিবাঙ্গী আরও বলেন, “আমাকে এভাবে দেখে কেউ তীর্যক মন্তব্য করতেই পারেন। তবে আমার মতে, বিয়ে কিছুক্ষণ পরেও করা যায়। কিন্তু পরীক্ষা অপেক্ষা করবে না। তাই আমি পরীক্ষাই আগে বেছে নিয়েছি। আমার হবু স্বামীর পরিবার থেকেও কোনও আপত্তি ওঠেনি। বরং তাঁরা আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন।”