দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত! এক হাতেই ৯ জনের সংসার চালাচ্ছেন ওপার বাংলার এই ব্যক্তি

দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত! এক হাতেই ৯ জনের সংসার চালাচ্ছেন ওপার বাংলার এই ব্যক্তি
দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত! এক হাতেই ৯ জনের সংসার চালাচ্ছেন ওপার বাংলার এই ব্যক্তি

কথায় বলে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। সেকথাই যেন প্রমাণ করলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার অমৃতকুণ্ড গ্রামের বাসিন্দা অরুণ দাস। বহুবছর আগের এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন নিজের ডান হাত। তবু হাল না ছেড়ে এক হাতেই বাঁশের তৈরি জিনিসপত্র বানিয়ে চালাচ্ছেন ৯ জনের সংসার। তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছেন স্ত্রীও। দুজনের মিলিত প্রচেষ্টায় কুটিরশিল্পী হিসেবে এলাকায় বেশ পরিচিতি গড়ে ফেলেছেন অরুণ দাস।

স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে , বহুকাল আগে এলাকার একটি রাইস মিলে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু সেখানে দুর্ঘটনার ফলে কাটা পড়ে ডান হাত। ফলে কাজ ছেড়ে কিছু দিন বাড়িতেই বসে থাকতে হয় তাঁকে। এদিকে পেটের দায় যে বড় দায়! তাই মা-বাবার পরামর্শে কুটিরশিল্পে নাম লেখালেন অরুণবাবু। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিস বানিয়ে তা বিক্রি করেই এরপর চালাতে লাগলেন সংসার। সে কাজে হাত লাগালেন অরুণবাবুর স্ত্রীও। দুজনে মিলেই এরপর টানতে লাগলেন ৯ জনের সংসার।

ওই সংবাদমাধ্যমকে অরুণবাবু জানিয়েছেন, বাড়িতে ৬ জন মেয়ে, অসুস্থ মা এবং তাঁরা স্বামী-স্ত্রী সহ ৯ জনের সংসার। ব্যবসা থেকে যা রোজগার হয় তাতে ঠিকমতো সংসার চালাতে পারেন না তিনি। মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। সংসারে নিত্যদিন লেগেই রয়েছে অভাব। তবু এর মধ্যেই এক মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসাও চালাচ্ছেন।

দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত! এক হাতেই ৯ জনের সংসার চালাচ্ছেন ওপার বাংলার এই ব্যক্তি
দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত! এক হাতেই ৯ জনের সংসার চালাচ্ছেন ওপার বাংলার এই ব্যক্তি

এই প্রসঙ্গে গ্রামেরই এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, অভাব থাকলেও কোনওদিন ভিক্ষা করে সংসার চালাননি অরুণ দাস৷ এক হাত না থাকা সত্ত্বেও কুটিরশিল্পের মাধ্যমেই সংসার চালিয়ে যান তিনি৷ কোনও দিনই কারোর থেকে অর্থসাহায্য চাননি তিনি। কিন্তু তাঁর কুটিরশিল্পের জন্য সরকারি সাহায্য পেলে বেশ উপকৃত হবেন অরুণবাবু৷ তাই সরকারের কাছে সাহায্যের অনুরোধও রাখেন ওই বাসিন্দা।

বিষয়টি নিয়ে চাটমোটের উপজেলা নির্বাসী অফিসার সৈকত ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত৷ তাঁরা ওই কুটিরশিল্পীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এও জানান, ওই শিল্পীর পরিবারে বসবাসের জন্য নতুন ঘর বানিয়ে দেওয়ারও পরিকল্পনা চলছে। অমৃতকুণ্ড হাট সংলগ্ন এলাকায় ঘাস-জমির সন্ধান চলছে। খোঁজ মিললেই সেখানে বসবাসের উপযুক্ত ঘর বানিয়ে দেওয়া হবে অরুণবাবুকে। প্রশাসনের তরফে তাঁকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।