নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক

নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক
নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক

কোনওদিন স্কুলে পা রাখেননি। নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রিও। কিন্তু শেখার তাগিদ এবং সাহস থাকলে যে প্রথাগত বিদ্যে ছাড়াই তা করা সম্ভব একথাই প্রমাণ করলেন গয়া স্টেশনের এক মালবাহক। তিনি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন৷ কোনওদিন স্পোকেন ইংলিশ ক্লাসে না গিয়েও ওই মালবাহকের ঝরঝরে ইংরেজি শুনে তাক লাগতে বাধ্য! যা শুনে চমকে গিয়েছেন নেটিজেনরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাতত সুপার ভাইরাল ওই মালবাহক।

নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক
নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক

নাম শিব কুমার গুপ্ত। বয়স প্রায় ৭০। কিন্তু প্রতিভা প্রকাশের ক্ষেত্রে বয়স তো সংখ্যা মাত্র৷ শেখার আগ্রহ থেকেই আজ ইংরেজিতে দক্ষ হয়ে উঠেছেন শিব কুমার। বিহারে গয়া জংশনে কুলির কাজ করতে করতেই আলাপ হয় বিদেশী পর্যটকদের সঙ্গে। তাদের দৌলতেই ইংরেজি শব্দের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তাঁর। আর তারপর সেই বর্ণমালা মনে গেঁথে নিয়েছেন তিনি। এখন তিনি গড়গড়িয়ে ইংরেজি বলতে ও বুঝতে ওস্তাদ! তাঁকে দেখলে কে বলবে, তাঁর কোনও ডিগ্রি বা স্কুলের শিক্ষা নেই।

গয়া স্টেশনে শিবকুমার পরিচিত ‘ইংলিশ কুলি ম্যান’ নামে। ইংরেজি বলতে ও বুঝতে পারায় গয়া স্টেশনের অন্যান্য মালবাহকের থেকে তিনি অনেকটাই আলাদা হয়ে উঠেছেন। বেড়েছে তাঁর জনপ্রিয়তাও। বিদেশী পর্যটকরাও গয়া স্টেশনে নেমে শিবকুমারের খোঁজ লাগান। সবসময় মাল বইতে না পারলেও বিদেশীদের হয়ে দোভাষীর কাজ করতেও দেখা যায় শিবকুমারকে। ইংরেজি না জানা অন্যান্য মালবাহকের সঙ্গে পর্যটকদের কথা বলিয়ে দেন তিনি। পাশাপাশি গাইডের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাঁকে। স্থানীয়দের কাছেও খুবই প্রিয় শিবকুমার। সকলেই তাঁকে ভালোবাসেন।

নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক
নেই পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রি! অথচ ঝরঝরে ইংরেজি বলে তাক লাগাচ্ছেন গয়ার এই বৃদ্ধ মালবাহক

আসলে শিবকুমারের জীবনের মূল লক্ষ্য, সকলকে সাহায্য করা। হাতে ইংরেজি সংবাদপত্র ও মুখে একগাল হাসি নিয়ে মানুষের সাহায্যে এগিয়ে যান তিনি। স্টেশনে নেমে একবার তাঁর খোঁজ করলেই হল, ঠিক চলে আসবেন শিবকুমার। বার্ধক্যের ভারে শরীর কিছুটা দুর্বল হলেও এখনও মনের জোরে কাজ করে যান তিনি। গয়া জংশনে কর্মরত আরেক কুলি সুরজ দেব চন্দ্রবংশীর কথায়, শিবকুমার গুপ্তকে আগে বাবা বলে ডাকা হতো, এখন তাঁকে ইংরেজি কুলি ম্যান বলা হয়। সবাইকে সাহায্য করতে ছুটে আসেন তিনি। সকলের পাশে দাঁড়ান। তাঁর এই ব্যবহারের কারণে মানুষ তাঁকে খুব পছন্দও করেন। আর মানুষের ভালোবাসাই যে তাঁর পরম পাওনা, এ কথা নিজেও স্বীকার করতে ভোলেননি শিবকুমার।