জন্ম থেকেই নেই দু’হাত! পা দিয়েই ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন বাংলার এই শিক্ষক

জন্ম থেকেই নেই দু'হাত! পা দিয়েই ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন বাংলার এই শিক্ষক
জন্ম থেকেই নেই দু'হাত! পা দিয়েই ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন বাংলার এই শিক্ষক

জন্ম থেকেই নেই দু’টি হাত। নিত্যনৈমিত্তিক সব কাজ তাই সারেন পায়ের সাহায্যেই। শুধু তাই নয়, পা দিয়েই অঙ্ক কষে বা ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে বিদ্যালয়ে শিক্ষা দানও করেন তিনি। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে ছাত্র ছাত্রীদের পড়িয়ে নজির গড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের আউসগ্রামের শিক্ষক জগন্নাথ বাউরী। ইচ্ছে থাকলেই যে উপায় হয়, তা ফের একবার প্রমাণ করলেন বাংলার এই শিক্ষক।

মধ্য ত্রিশের জগন্নাথ বাউরীর বাড়ি আউসগ্রাম ১ ব্লকের বেরেন্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের বেলুটি গ্রামে। জন্মের সময় থেকেই হাত না থাকায় জগন্নাথ দেবের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর নাম রাখা হয় জগন্নাথ। এরপর মা-বাবার চেষ্টায় বেলুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হন তিনি। প্রাথমিকের পড়া শেষ করে বড় স্কুলে ভর্তির সময় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয় জগন্নাথকে। কারণ তিনি শারীরিক ভাবে অক্ষম। তবু তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের মনোবল এবং বাবা-মায়ের কথায় আস্থা রেখে ক্রমাগত লড়ে গিয়েছেন তিনি। জগন্নাথের মা-বাবা চাইতেন, এই প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে অন্ততঃ নিজের পায়ে দাঁড়াক তাঁদের ছেলে। তাই দিন মজুরি খেটে ছেলের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন তাঁরা।

জন্ম থেকেই নেই দু'হাত! পা দিয়েই ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন বাংলার এই শিক্ষক
জন্ম থেকেই নেই দু’হাত! পা দিয়েই ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াচ্ছেন বাংলার এই শিক্ষক

এদিকে জগন্নাথবাবুর তাঁর চেষ্টায় অটল ছিলেন। তাঁর পায়ে পেন্সিল গুঁজে দিয়ে তাঁকে বাংলা ও ইংরেজি অক্ষর লেখা শিখিয়েছিলেন বেলুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূতনাথ পাল। তাঁর পরই তাঁর লেখাপড়া শেখার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর কঠোর পরিশ্রমে লেখাপড়া চালিয়ে যান তিনি। সাফল্যের সঙ্গে মাধ্যমিকও উত্তীর্ণ হন। তারপর তিনি ভর্তি হন ’বেসিক ট্রেনিং’ কোর্সে। সেই ট্রেনিং সম্পূর্ণ হওয়ার পরই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি পান জগন্নাথ বাবু। এরপর বিগত প্রায় ১২ বছরেরও বেশী সময় ধরে আউসগ্রামের জয়কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে চলেছেন এই শিক্ষক। পা দিয়ে চক-পেন্সিল দিয়ে ব্ল্যাক বোর্ডে লিখে ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা দান করে আসছেন তিনি।

জগন্নাথ বাবুর কথায়, ছোট থেকে তিনি শুনে আসছেন শিক্ষার জিনিসে পা দিতে নেই। কিন্তু তাঁর উপায় নেই। পায়ের আঙুলে চক পেন্সিল গুঁজেই বোর্ডে লিখে বিদ্যালয়ে পড়া বোঝান তিনি। তবে তা নিয়ে কোনও অবিভাবক বা পড়ুয়া কোনওদিন আপত্তি তোলেনি। বরং পড়ুয়ারা চায় এই স্যারই তাদের পড়া বোঝান। বিদ্যালয়ের সহকর্মী ছাত্র-ছাত্রীরা, সকলেই তাদের প্রিয় জগন্নাথ স্যারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আসলে পড়াশোনা এবং কাজের প্রতি অদ্যম জেদের কাছে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে জগন্নাথের। আগামীতেও পড়ুয়াদের এভাবেই শিক্ষা দিয়ে যেতে চান বলেও জানিয়েছেন বাংলার এই অদম্য শিক্ষক।