‘২০২৪-এ নিজের জন্য একটি নিরাপদ আসন খুঁজে নিন, সামনেই কঠিন লড়াই’! মোদীকে টুইটে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের

‘২০২৪-এ নিজের জন্য একটি নিরাপদ আসন খুঁজে নিন, সামনেই কঠিন লড়াই’! মোদীকে টুইটে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
‘২০২৪-এ নিজের জন্য একটি নিরাপদ আসন খুঁজে নিন, সামনেই কঠিন লড়াই’! মোদীকে টুইটে চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের / ছবি সৌজন্যে- Screenshot From Facebook Video Posted By @narendramodi / CM Mamata Banerjee File Photo

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিত্যদিন তৃণমূল এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব একে অপরকে অভিযোগের তিরে বিদ্ধ যেমন করছে, তেমনই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে একে অপরের দিকে। একে অপরকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে নানা ধরনের ‘মাইন্ড গেম’ খেলছে। কখনও পরোক্ষভাবে তো আবার কখনও সরাসরি নির্বাচনী সভা, মিটিং, মিছিল থেকে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নন্দীগ্রামে ভোটের পরিস্থিতিতে মোদী ‘দিদি’র হার প্রত্যক্ষ করেছেন বলে দাবি করেন। উলুবেড়িয়ার সভা থেকে তাই ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন করেছিলেন যে, তাহলে কি অন্য কোনও আসন থেকে ফের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? যদিও মোদীর এই ব্যঙ্গাত্মক প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিশ্চিত। তাই অন্য কোনও আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও প্রশ্নই নেই। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার রাতে টুইট করে একথা জানিয়েও দেওয়া হয়। আর এই টুইট এখানেই শেষ নয়। এই টুইটের পরবর্তী অংশেই রয়েছে বড় চমক। আর এই চমক থেকেই এক নতুন জল্পনার জন্ম হয়েছে। এই টুইটে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এক অন্য ইঙ্গিত পাচ্ছে।

তৃণমূলের অফিশিয়াল পেজ থেকে করা সেই টুইটে কী বলা হয়েছে এবার তা দেখে নেওয়া যাক। এই টুইটের প্রথমাংশ খুব স্পষ্ট এবং সেখানে সরাসরি বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরের অংশেই রয়েছে সেই বিশেষ ইঙ্গিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শ- ‘পশ্চিমবঙ্গে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হওয়ার আগেই, বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন। আপনার মিথ্যে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। বরং ২০২৪-এ নিজের জন্য নিরাপদ একটি আসন খুঁজে নিন। কারণ, আপনি বারাণসীতে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়বেন।’

তৃণমূলের থেকে করা এই টুইট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এই টুইট প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় জল্পনা। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তাহলে কি পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবেন খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? সেই ইঙ্গিত দিতেই কি এই টুইট?

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই যে, এই মুহূর্তে যে দল বিজেপি বিরোধিতায় সবথেকে বেশি সরব, সেই দলের নাম তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনী আবহেই হোক বা অন্য যেকোনো সময়ে, যেকোনো বিষয়ে রাজ্য-কেন্দ্র এবং মোদী-মমতার সংঘাত অব্যাহত। একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ করার এক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সুযোগও হাতছাড়া করেন না। মমতার বিরুদ্ধে বা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, তৃণমূল নেত্রী হুঁশিয়ারি, ‘আগে দিল্লি সামলান’।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতিতেও অবিজেপি দলগুলিকে একজোট করার দায়িত্ব নিয়েছেন এই তৃণমূলে নেত্রীই। তাই আগামী লোকসভা নির্বাচনে মোদীর বিরুদ্ধে অ-বিজেপি দলগুলিকে একসঙ্গে করে মোদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে, এবং সেই যুদ্ধের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হলেও, অবাক হওয়ার কিছু নেই। তৃণমূল কংগ্রেসের এই টুইটের পর, তেমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।

এদিকে, তৃণমূলের তরফে এই টুইট করতেই তা ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ লোকসভা ভোটে বারাণসীতে ‘মোদী বনাম দিদি’ কল্পনা করে, টুইট যুদ্ধে মেতেছেন নেটিজেনরাও।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.