বাঁকুড়ায় বিজেপি বিধায়ককে দেখতেই ‘চোর’ স্লোগান! দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গলা মেলালেন সায়ন্তিকা

বাঁকুড়ায় বিজেপি বিধায়ককে দেখতেই ‘চোর’ স্লোগান! দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গলা মেলালেন সায়ন্তিকা
বাঁকুড়ায় বিজেপি বিধায়ককে দেখতেই ‘চোর’ স্লোগান! দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে গলা মেলালেন সায়ন্তিকা

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু জিততে পারেননি। সেই সায়ন্তিকাই এবার বিজেপি বিধায়ককে লক্ষ্য করে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ‘চোর’ স্লোগানে গলা মেলালেন অভিনেত্রী।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তুমুল উত্তেজনা ছড়াল বাঁকুড়ার কানকাটা এলাকায়। ঠিক কী ঘটেছিল? মঙ্গলবার বিকেলে বাঁকুড়া শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কানকাটা এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচি পালন করে তৃণমূল। এলাকায় একটি মিছিলও বের করেন শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন সায়ন্তিকা। মিছিল কানকাটা এলাকায় এগোতেই, তার সামনে এসে পড়ে নীলাদ্রির গাড়ি। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি দেখতেই মিছিল থেকে স্লোগান ওঠে— ‘চোর চোর চোরটা, বিজেপি-র এমএলএ- টা’। তাতে গলা মেলান সায়ন্তিকা-সহ তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরাও। অবশ্য তার পরেও বিজেপি বিধায়কের গাড়ি না থেমেই এগিয়ে যায়।

আর এনিয়েই শুরু হয়েছে শাসক এবং বিরোধীর তরজা। উল্লেখ্য, এই মিছিলের নেতৃত্বে সায়ন্তিকা ছাড়াও ছিলেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান মহাপ্রসাদ সেনগুপ্ত, পুর প্রশাসক অলকা সেন মজুমদার-সহ দলীয় নেতা-নেত্রীরা, কর্মী-সমর্থকেরা। অন্যদিকে, স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদিকা।

এই ঘটনার পর তৃণমূলকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি নীলাদ্রি। তিনি বলেন, ‘এটি বুদ্ধিভ্রম ও গণতন্ত্র হত্যার উদাহরণ। সায়ন্তিকা ছোটবোনের মতো। তবে আমার কাছে ভোটে হারার পর এমন আচরণ করেছে তাঁর দল তৃণমূল। তৃণমূল শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমার জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়ে তৃণমূল এ সব করে বেড়াচ্ছে।’

অন্যদিকে, নীলাদ্রির অভিযোগের পর তাঁকে পাল্টা জবাব দিয়েছেন সায়ন্তিকাও। তাঁর দাবি, ‘বিজেপি বিধায়ক কাজ করেন কি না, তা বাঁকুড়ার মানুষ ভাল মতোই জানেন। বিধায়ককে তো এ এলাকায় দেখাই যায় না।’  তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদিকা কটাক্ষের সুরে আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের সময় বিধায়ককে খুঁজে না পেয়ে বাঁকুড়ার মানুষ থানায় মিসিং ডায়েরি করার কথাও ভাবছেন। আমাদের মতামত ও বাস্তব চিত্রটাই স্লোগান দিয়ে জানিয়েছি। এতে কারও অসুবিধা হলে তিনি যা খুশি বলতে পারেন।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একুশের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী নীলাদ্রিশেখর দানার কাছে হেরে গিয়েছিলেন সায়ন্তিকা। তবে, ভোটের ফল প্রকাশের পর পরাজিত প্রার্থীকে দলের রাজ্য সম্পাদিকা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রাজ্য সম্পাদিকা হয়েই বাঁকুড়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে সায়ন্তিকা। আর আজকের এই ঘটনায় নিজের পাড়ায় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের কটাক্ষের শিকার হলেন, বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়ক নীলাদ্রিশেখর দানা। আজকের এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছে। এর জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।