‘রাহুলের মতো পার্ট-টাইম নেতার কাছে রাজনৈতিক জ্ঞানহীন ভাষণ শুনবে না তৃণমূল’, কটাক্ষ কুণালের

‘রাহুলের মতো পার্ট-টাইম নেতার কাছে রাজনৈতিক জ্ঞানহীন ভাষণ শুনবে না তৃণমূল’, কটাক্ষ কুণালের
‘রাহুলের মতো পার্ট-টাইম নেতার কাছে রাজনৈতিক জ্ঞানহীন ভাষণ শুনবে না তৃণমূল’, কটাক্ষ কুণালের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অনেক টালবাহানার পর, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ ৫ সদস্যের কংগ্রেস প্রতিনিধি দলকে লখিমপুর খেরিতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। শুধু কংগ্রেসই নয়, যে কোনও রাজনৈতিক দলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল যেতে পারবেন লখিমপুরে। এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারি তরফে। এও জানানো হয়েছে যে, কথাও বলা যাবে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে।

এদিকে, অনুমতি পাওয়ার আগে, তৃণমূল সাংসদদের লখিমপুর যাওয়া নিয়ে এ রাজ্যের শাসকদলের দিকে পরোক্ষে আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের সেই আক্রমণের পাল্টা জবাব দিলেন এবার তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। কড়া ভাষায় রাহুল গান্ধীকে টুইটে আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, রাহুলের মতো মতো পার্ট-টাইম রাজনীতিবিদদের কাছে তাঁরা কোনও জ্ঞান শুনবেন না। কারণ, কংগ্রেস যেখানে নিজেদের গড়ে বিজেপিকে হারাতে ব্যর্থ হচ্ছে, সেখানে তৃণমূল বাংলায় বিজেপিকে হারাচ্ছে।

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রায় ৩০ ঘন্টার বেশি সময় সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকেও গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। যদিও এই মুহূর্তে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা উভয়েই রওনা দিয়েছেন লখিমপুরে নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে।

তবে, কংগ্রেসকে ওখানে যেতে দেওয়ায় আজই যাওয়ার আগে সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী বিজেপিকে এক হাত নিয়ে বলেন, ‘বিজেপি সরকার শুধু কংগ্রেসকে লখিমপুর যেতে বাধা দিচ্ছে। সব রাজনৈতিক দলকে আটকানো হচ্ছে না। তৃণমূল বা ভীম সেনার মতো দলকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। রাহুলের এই মন্তব্য তৃণমূলের প্রতি শ্লেষ ছিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।’

এরপরই কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে আসরে নামেন তৃণমূল মুখপাত্র তথা রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ। রাহুলকে উদ্দেশ্য করে তাঁর টুইট, ‘রাহুল গান্ধীর জানা উচিত তৃণমূল সাংসদরা অনেক লড়াইয়ের পর লখিমপুর যেতে পেরেছেন। আগরতলায় শুধু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকাতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কংগ্রেস আমেঠির মতো নিজেদের গড়েও হেরো পার্টি। বিজেপিকে বাংলায় হারিয়েছে তৃণমূলই।’

কুণালের বক্তব্য, ‘এভাবে তথ্য বিকৃত করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয় রাহুলের। রাহুলের মতো পার্ট টাইম নেতা, যিনি বিজেপিকে হারাতে পুরোপুরি ব্যর্থ, তাঁর কাছে কোনও রাজনৈতিক জ্ঞানহীন ভাষণ তৃণমূল শুনবে না। আমরাও কংগ্রেসকে শ্রদ্ধা করি। আমরাও বিজেপি বিরোধী ঐক্যে বিশ্বাস করি। তাই আমরা আজ রাস্তায়। শুধু টুইটারে আটকে নেই।’