‘দোষী ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার শাস্তি হবে, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন’, মাথাভাঙায় বললেন মমতা

'দোষী ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার শাস্তি হবে, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন', মাথাভাঙায় বললেন মমতা
'দোষী ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার শাস্তি হবে, আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন', মাথাভাঙায় বললেন মমতা

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ঘোষণা করেছিলেন আগেই। তবে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের শীতলকুচিতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য যেতে পারেননি। তাই নিষেধাজ্ঞা উঠতেই, আজ মাথাভাঙায় যান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শীতলকুচি গুলিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁদের পরিবারের পাশে থাকারও আশ্বাস দেন তিনি।

আজ সকালেই, বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ কপ্টারে চড়ে মাথাভাঙায় হাসপাতালের পাশের মাঠে নিহতদের স্মরণসভায় পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে নিহত চারজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে গত শনিবার, চতুর্থ দফার ভোটে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত হন আনন্দ বর্মণ নামে এক যুবকও। তাঁর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন মমতা। প্রথমে রাজি না হলেও, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন আনন্দ বর্মণের দাদু এবং মামা।

মাথাভাঙায় নিহতদের স্মরণসভায় বক্তব্য রাখার পাশাপাশি নিহতদের আত্মীয়দের সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মমতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছি। ছোট ছোট ছেলেরা মারা গিয়েছে। দেখলাম একজনের স্ত্রী গর্ভবতী। একজনের বাচ্চা একেবারে শিশু। আমি মনে করি, এই ঘটনার সঠিক বিচার হওয়ার প্রয়োজন। যারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করবই। ভোটটা মিটে যাক, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যা যা তদন্ত করা যায় তা আমরা করব। আপনারা জানেন, ঘটনার পরদিনই আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। আপনারা শান্ত থাকুন। উত্তেজিত হবেন না। দোষী ব্যক্তিরা শাস্তি পাবে। মৃত্যুর বিকল্প অর্থ হয় না। তবে নিহতদের পরিবারকে রাজ্য সরকার সাহায্য করবে। রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে অন্য যারা নিহত হয়েছে তাদেরও সাহায্য করা হবে।’

তিনি বলেন যে, ‘আজ আমার প্রচারের শেষ দিন। তা সত্বেও এসেছি। কারণ ৭২ ঘণ্টা আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। আমরা ছেড়ে কথা বলব না। দোষী ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন তার শাস্তি হবে। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন।’

নিহতদের পরিবারের উদ্দেশে বলেন, ‘সবাইকে আবেদন, শান্তি রক্ষা করুন। বুলেটের বদলে ব্যালটে তার জবাব দেবে। নিহত আনন্দ বর্মণও আমরা এক রাজবংশী ভাই। নিহতরা সবাই রাজবংশী। কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম। আমাদের দলের সদস্যদের বলব, নিহতদের একটা করে শহিদ বেদী তৈরি করে দিতে। এর দায়িত্ব রবিকে নিতে বলছি। নির্বাচনের পর তা করা হবে। আমি আসব উদ্বোধন করতে।’

সভা শেষের আগে তিনি বলেন, ‘আজ আমার অনেকগুলো সভা রয়েছে। তাই আপনাদের কাছে অল্পক্ষণ থাকার জন্য আমি ক্ষমা প্রার্থী। আর নিহতদের পরিবারগুলোকে বলতে চাই, আপনারা আমাকে নিজের ঘরের ময়ে বলে মনে করবেন। তা সে হিন্দু হোক বা মুসলিম। আমার দিক থেকে যতটা পারব তা করব। ভোটের পর প্রথম আপনাদের কাছেই আসব। তখন যা যা করার করব। সবাইকে অনুরোধ, শহিদের জন্য প্রার্থনা করবেন। তাঁদের পরিবারগুলো যাতে ভালো থাকে তা দেখবেন। নিহতদের প্রতি আমি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি। দলের কর্মীদের বলছি। আনন্দ-সহ নিহতদের পরিবারদের বাড়িতে পৌঁছে দিন। আবার দেখা হবে। গণতন্ত্রের জয় হোক।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.