‘কেন্দ্র বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণ করুক’, সিতাইকাণ্ডে বিএসএফের বিরুদ্ধে সরব হলেন উদয়ন গুহ

‘কেন্দ্র বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণ করুক’, সিতাইকাণ্ডে বিএসএফের বিরুদ্ধে সরব হলেন উদয়ন গুহ
‘কেন্দ্র বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণ করুক’, সিতাইকাণ্ডে বিএসএফের বিরুদ্ধে সরব হলেন উদয়ন গুহ

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ শুক্রবার ভোররাতে কোচবিহারের সীমান্তে চলল গুলি। গরু পাচারকারী সন্দেহে সীমান্তে কয়েকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। তাঁদের মধ্যে ২ জন বাংলাদেশী ও একজন ভারতীয় নাগরিক বলেই খবর।

সিতাই-এর এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করলেন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি বলেন সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের ভূমিকা ঠিক নয়। তিনি বললেন, ‘কেন্দ্র অবিলম্বে বিএসএফকে নিয়ন্ত্রণ করুক। নাহলে যে কোনও সময় ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে।’ তাঁর মতে, সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্ম ঘটে চলেছে। তার দায়দায়িত্ব বিএসএফের কাঁধে পরে। অপরাধীদের সঙ্গে বিএসএফের যোগসাজশে এসব কাজকর্ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কেন জিরো পয়েন্ট থেকে কাঁটাতারের বেড়া নয়? সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরারাতে কোচবিহারের সাতভাণ্ডারী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মৃত্যু হয় ৩ জনের। বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এদিন ভোররাতে কোচবিহারের সিতাই থানা এলাকার অন্তগর্ত সাতভাণ্ডারী সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারের চেষ্টা করছিলেন কয়েকজন। এক ভারতীয় নাগরিক গরু পৌঁছে দিচ্ছিলেন কাঁটাতারের বেড়া পর্যন্ত। বিষয়টি নজরে আসতেই, বাধা দেন ওই সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানরা। তাঁদের অভিযোগ, জওয়ানরা বাধা দিলে, সেই সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ইট ছুঁড়তে থাকে গরু পাচারকারীরা। তার ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই পালটা গুলি চালায় সামীন্তরক্ষী বাহিনী। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয়, তাঁর নাম প্রকাশ বর্মণ।

এই ঘটনায় বিএসএফের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন এদিন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। তিনি বলেন, ‘ছোট থেকেই বিএসএফের অত্যাচার দেখে আসছি। ওরা বরাবর সীমান্তের এলাকার মানুষদের উপর নির্যাতন করে।’ তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহর আরও দাবি, বিএসএফের মদতেই সামীন্তে চোরাচালান চলে। তাঁর অভিযোগ, ভাগাভাগি নিয়ে সমস্যা হওয়ার কারণেই মাঝে মধ্যে গুলি চালায় জওয়ানরা। এরপরই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বলেন, ‘কোনও পরিস্থিতিতেই হত্যা করতে পারে না বিএসএফ। ’

উল্লেখ্য, রাজ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির পরিসর বাড়ছে। ১৫ কিলোমিটারের বদলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভিতরে ঢুকে প্রয়োজন পড়লে কাউকে গ্রেফতারও করতে পারবে বিএসএফ জওয়ানরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, বিএসএফের আওতাধীন এলাকা ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। তবে, এনিয়ে রাজ্যের ঘোর আপত্তি রয়েছে।