ভোটের আগে সদ্য যোগদানকারী তারকাদের ক্লাস নিচ্ছে তৃণমূল

ভোটের আগে সদ্য যোগদানকারী তারকাদের ক্লাস নিচ্ছে তৃণমূল
ভোটের আগে সদ্য যোগদানকারী তারকাদের ক্লাস নিচ্ছে তৃণমূল

সদ্য দলে যোগ দেওয়া তারকাদের নিয়ে ক্লাস করানো হল তৃণমূলে ভবনে। গত ১০ বছরে রাজ্য সাফল্যের সঙ্গে কী করেছে, প্রচারের ময়দানে কী বলতে হবে, কী বলা যাবে না, কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা কী, এই ধরণের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয় তারকা সদস্যদের সামনে।

সভামঞ্চে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে অপ্রয়োজনীয়, অশালীন ভাষার প্রয়োগ। বিভিন্ন দলের নেতানেত্রীর বক্তব্যেও কাজের কথার চেয়েও বেশি উঠছে ‘খেলা হবে’ রব। যা দেখে অনেকে বলছেন সেকালের নামী রাজনীতিকদের কথা, যাঁদের বাক্যচয়ন থেকে ভঙ্গী, সারমর্ম শ্রদ্ধার উদ্রেক করত। মূলত সে কথা মাথায় রেখে নবাগত সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য এদিনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের আগে দেড়ঘণ্টা ক্লাস করানো হল অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। শিক্ষাগুরু ডেরেক ওব্রায়েন। এদিন উপস্থিত প্রত্যেক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটা মোটা বই।

জানা যাচ্ছে, সেই বইতে সরকারে উন্নয়নমূলক কাজ ও প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এই প্রশিক্ষণ শিবিরে দলে যোগ দেওয়া অভিনেতাদের শেখানো হয়েছে, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, চিন্তাধারা মতাদর্শকে আক্রমণ করা যেতে পারে। শেখানো হয়েছে, তাঁরা যেকথাই বলবেন, তা যেন বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে কথা বলতে হবে। এছারাও তৃণমূল সরকারে থাকাকালীন কী কাজ করছে, কোন প্রকল্পে শিরোপা পেয়েছে, তা বেশি করে প্রচার করতে হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার, তাঁদের কথা শোনার ও বোঝার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে অভিনেতাদের।

এবিষয়ে রাজ চক্রবর্তী বলেন, ”সরকার বাংলার মানুষের জন্য কী করেছে? আরও কী করবে? সেগুলো বলা হয়েছে। মূলত উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। বাংলার মানুষের প্রতি মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে আবেগ সেকথা আমরা সবাই জানি। তবে সেটাকে কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেব, সেটা শেখানো হয়েছে। ” রাজের কথায়, ” এটুকু বলতে পারি, রাজনীতির ময়দানে জোর লড়াই হবে।”

রনিতা দাস বলেন, ”আমরা সবাই দিদির পাশে ছিলাম। ২০১১ থেকে প্রত্যেকটা উন্নয়ন দেখেছি। তবে প্রত্যেকটা প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কন্যাশ্রী প্রকল্প করেছেন। আর মোদিজী বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও করেছেন, এই দুটো প্রকল্পের মধ্যে কোনটা বেশি ভালো? সেটা আমাদের জানা উচিত। আমরা সেগুলিই বিস্তারিত জানলাম। এতে আমরা যখন মানুষের কাছে পৌঁছব, মানুষকেও সঠিক তথ্য দিতে পারব। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। তাই তাঁদের সঠিকটা জানানোর জন্য আমাদেরও তো জানতে হবে।”

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিয়া সেনগুপ্ত, মানালি দে, সৌরভ দাস, শ্রীতমা ভট্টাচার্য, সৌপ্তিক চক্রবর্তী, লাভলি মৈত্র প্রমুখ তারকারা। এই ক্লাসে কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় ও কাজ করা যায় তা শেখার পাশাপাশি সবাই মিলে আলোচনা হল বলে জানিয়েছেন তারকারা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.