শহিদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সমাবেশ, রেকর্ড সংখ্যক কর্মীর অংশগ্রহণের সম্ভবনা!

শহিদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সমাবেশ, রেকর্ড সংখ্যক কর্মীর অংশগ্রহণের সম্ভবনা!
শহিদ দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল সমাবেশ, রেকর্ড সংখ্যক কর্মীর অংশগ্রহণের সম্ভবনা!

নিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় বিপুল ভোটে জয় হাসিল করে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। মোদী-অমিত শাহ জুটি বাংলার ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখলেও, তা ধুলোয় মিশে গেছে। শেষ হাসি হেসেছে তৃণমূল কংগ্রেসই। এবারের ২১ জুলাই শহিদ দিবসের তাই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে। তাই পরিকল্পনারও শেষ নেই। তবে, করোনা আবহের কথা মাথায় রেখে, জনসমাগম নয়, ভার্চুয়াল সমাবেশের পথেই হাঁটবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

জানা গিয়েছে, রাজ্যে ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালন কর্মসূচিতে দুপুর ২ টো নাগাদ কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দেবেন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির নেতারা। এর পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে সভা হবে। কেন্দ্রীয় একটি স্থান বাছাই করে নিয়ে সেখানেই মঞ্চ থাকবে। এছাড়াও প্রত্যেকটি বুথে যাতে দলীয় কর্মসূচি পালিত হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে বিধায়ক এবং কাউন্সিলরদের।

দুই ভাগে বুথস্তরের কর্মীরা তাঁদের কর্মসূচি পালন করতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে প্রতি বুথে সকাল ১০ টায় ৫০ জন করে কর্মী সমবেত হবেন। তবে, এক্ষেত্রে সবরকমভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই, কাজ করতে হবে বলে নির্দেশ রয়েছে দলের তরফে। এরপর দুপুর ২ টো থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য লাইভ দেখানো ও শোনানো হবে জায়ান্ট স্ক্রিনে। বিধায়ক এবং অন্যান্য নেতাদের সেখানে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২১ জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে ধর্মতলায় থাকবে শহিদ তর্পণের ব্যবস্থাও। দুপুর ১২ টা নাগাদ সেখান উপস্থিত থাকবেন দলের প্রথম সারির নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, করোনাবিধি মেনেই সব ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। এছাড়াও শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, যেমন শ্যামবাজার, গিরীশ পার্ক, লেকটাউন, পার্ক স্ট্রিট, এসপ্ল্যানেড, চেতলা, টালিগঞ্জ, হাজরা-সহ একাধিক জায়গায় থাকছে জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেই চলবে তৃণমূলের শহিদ দিবসের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাংলার বাইরে এবার খোদ মোদী-শাহের ‘গড়’ গুজরাটে সংগঠন গড়েছে তৃণমূল। শুধু সংগঠন গড়াই নয়, সেখানে শোনানো হবে ‘দিদি’র ২১ জুলাইয়ের বার্তাও। ইতিমধ্যেই সেই প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস, গুজরাট প্রদেশ’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার পরই, ‘বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’, ‘দিদি এবার পিএম’-এর মতো স্লোগান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেই জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্ব বাড়াতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

বাংলার বাইরে একাধিক রাজ্যে সংগঠন আরও মজবুত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরের। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অ-বিজেপি শক্তিগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে ক্ষমতায় ফেরার পর এমনিতেই অবিজেপি নেতৃত্বের কাছে নেত্রীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। দেশব্যাপী বিজেপির বিরুদ্ধে অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সেই লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে এবার শুধু বাংলাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেত্রীর ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের ভাষণ পৌঁছে দিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে দিল্লিতে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে তৃণমূল নেত্রীর ভাষণ সম্প্রচার করার ঘোষণা করা হয়েছে। যোগীরাজ্য উত্তরপ্রদেশ, বিপ্লব দেবের ত্রিপুরা, হিমন্ত বিশ্বশর্মার অসম-সহ ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাবেও তাঁর ভাষণ সম্প্রচার করা হবে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, এইসব রাজ্যের পাশাপাশি তালিকায় যুক্ত হয়েছে মোদী-গড় গুজরাটের নাম। সে রাজ্যের ৩৩-এর মধ্যে ৩২ জেলাতেই বড় স্ক্রিনে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলাইবাহুল্য, মোদি-শাহের গড়ে কড়া ভাষাতেই তাঁদের একহাত নেবেন তৃণমূল নেত্রী। তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

রাজধানী দিল্লিতে বড় করে পালিত হবে ২১ জুলাই। জানা গিয়েছে, জায়ান্ট স্ক্রিন লাগানো হবে দিল্লির একাধিক জায়গায়। ছোট রাজ্য হলেও ত্রিপুরার দিকে কড়া নজর রয়েছে তৃণমূলের। তাছাড়া সে রাজ্যে সংগঠনও রয়েছে তাঁদের। ২১ জুলাই ত্রিপুরায় প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই পালিত হবে। দেখানো হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণও। সব মিলিয়ে এবারের ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে।