নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, দিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, দিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল
নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নির্বাচনী প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, দিল্লিতে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৮ দফায়। ইতিমধ্যেই চার দফার ভোট সম্পূর্ণ হয়েছে, সামনেই পঞ্চম দফার ভোট। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস।

বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফর দফতরে গিয়ে এ সংক্রান্ত অভিযোগ জানায় তৃণমূল কংগ্রেসের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের তরফে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সেভাবে সক্রিয় হচ্ছে না নির্বাচন কমিশন৷ বাকি দফার ভোটগুলিতে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারিরও দাবি জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।

এদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে যান চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। এঁদের মধ্যে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়েন, শান্তনু সেন এবং প্রতিমা মণ্ডল৷ তৃণমূলের তরফে যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর দু’টি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে, আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি অভিযোগ করা হয়েছে শাসকদলের পক্ষ থেকে৷

শাসকদলের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ এপ্রিল কল্যাণীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘দিদি মতুয়া সমাজের জন্যও কিছু করেননি, নমঃশূদ্র ভাইবোনেদের জন্যও কিছু করেননি৷’ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, এই মন্তব্য করে তিনি আসলে ধর্ম এবং জাতপাতের ভিত্তিতে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্য একটি অভিযোগে বলা হয়েছে যে, গত ১০ এপ্রিল শিলিগুড়ির জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনার জন্য প্রত্যক্ষভাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যাযকেই দায়ী করেছেন। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি-র প্রতি জনসমর্থন দেখে দিদি এবং তার গুন্ডারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে৷ আপনার ক্ষমতা চলে যাচ্ছে দেখে, আপনি এই স্তরে নেমে এলেন?’ তৃণমূলের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগও আদর্শ আচরণবিধি বিরোধী। প্রমাণ ছাড়া প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কোনও নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য করা যায় না বলে দাবি করেছে শাসকদল তৃণমূল।

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ করেছে রাজ্যের শাসকদল৷ গত ১১ এপ্রিল শান্তিপুরের সভায় অমিত শাহ অভিযোগ করেন, ‘কোচবিহারে মৃত আনন্দ বর্মণের মৃত্যুতে সমবেদনা জানাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কারণ তিনি রাজবংশী সমাজের এক যুবক৷’ এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, আনন্দ বর্মণ নামে ওই যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়েই সমবেদনা জানিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী৷ অমিত শাহ এই মন্তব্য করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করার সঙ্গে সঙ্গে, ভেদাভেদের রাজনীতি করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূল৷

এই ধরনের উক্তি এবং মন্তব্য করার জন্য বাকি দফার ভোটগুলিতে প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল৷ এখনও কেন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নিল না, সেই প্রশ্নও তুলেছে রাজ্যের শাসকদল৷ একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভায় এমন কিছু উক্তি করছেন, যা মহিলাদের প্রতি অসম্মানজনক৷ এর আগেও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূল৷ কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কমিশনের পক্ষ থেকে।

একই সঙ্গে এ দিনও ফের তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি-র মাঝারি এবং নিচু স্তরের আরও বেশ কিছু নেতা নিয়মিত এমন কিছু সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করছেন, যা আদর্শ আচরবিধির বিরুদ্ধে৷ আবার শীতলকুচির ঘটনা নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন একাধিক বিজেপি নেতা৷ কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ তৃণমূলের৷

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.