উত্তপ্ত দিল্লি! ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লজ্জাজনক’, নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধলেন অভিষেক

উত্তপ্ত দিল্লি! ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লজ্জাজনক’, নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধলেন অভিষেক
উত্তপ্ত দিল্লি! ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লজ্জাজনক’, নাবালিকা ধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিঁধলেন অভিষেক

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ফের ধর্ষণ কাণ্ডে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। ন’বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ। সেখানেই শেষ নয়, নিগৃহীতার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে, পুলিশকে না জানিয়ে হামলাকারীরা দেহটি দাহও করে দেয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দিল্লি।

এবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিঁধলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজধানী দিল্লিতে নাবালিকার উপর নির্যাতনের ঘটনার উল্লেখ করে টুইটারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, ‘প্রতিদিন দেশজুড়ে আমাদের মেয়েদের, তফসিলি সম্প্রদায়ের সদস্যদের ভয়ঙ্কর অত্যাচারের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এটা প্রমাণ করে দিচ্ছে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কতটা অসংবেদনশীল। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লজ্জাজনক।’

এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, তিনি দিল্লির পুলিশ প্রধান হিসেবে রাকেশ আস্থানার নিয়োগ নিয়েও সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘দিল্লির পুলিশ কমিশনার রাকেশ আস্থানা অমিত শাহের কাছের মানুষ। তিনি কি দায়িত্বপালন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন? নাকি তাঁর নিয়োগের পিছনে অন্য কোনও কারণ আছে?’

দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুরনো নাঙ্গল এলাকার একটি প্রান্তিক পরিবারের এক বালিকার মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রবিবার সন্ধে নাগাদ বছর নয়ের এক নাবালিকা খাবার জল সংগ্রহ করতে স্থানীয় শ্মশানে যায়। কিন্তু সেখান থেকে আর বাড়ি ফেরেনি। সোমবার সন্ধ্যায় ওই বালিকার পরিবারকে স্থানীয় লোকজন খবর দেয় ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ওই শ্মশানের পুরোহিত ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে এও অভিযোগ ওঠে যে, কার্যত বালিকার পরিবারের লোকেদের ভয় দেখিয়ে, একপ্রকার জোর করেই দেহটি দাহ করিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে নাবালিকার পরিবারের মানুষদের জানানো হয় যে, জল সংগ্রহ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে মেয়েটির। কিন্তু মেয়েটির মা ও অন্যান্য সদস্যরা জানান যে, ওই নাবালিকার শরীরে পোড়া দাগ ছিল। এমনকি ঠোঁট ও মুখে নীল দাগ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

এরপরই ওই নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্ত না করার জন্য জোর করে শ্মশানের পুরোহিত। সে মৃত নাবালিকার পরিবারকে বলে যে, ময়নাতদন্তের সময় শরীর থেকে অঙ্গ চুরি করে নেওয়া হয়। তাই কোনওভাবে পুলিশকে না জানিয়ে, দেহ দাহ করে দেওয়ার জন্য পরিবারের উপর চাপ দেওয়া হয়। এরপর জোর করেই দেহটি দাহ করে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে, বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় ২০০-র বেশি স্থানীয় মানুষ জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। রে গভীর রাতে অভিযোগ দায়ের করা হয় থানায়।

এদিন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দিল্লি পুলিশের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একহাত নেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।