এবার কি বিজেপিতে শিশির অধিকারী! উপস্থিত থাকতে পারেন মোদীর মঞ্চে

এবার কি বিজেপিতে শিশির অধিকারী! উপস্থিত থাকতে পারেন মোদীর মঞ্চে
এবার কি বিজেপিতে শিশির অধিকারী! উপস্থিত থাকতে পারেন মোদীর মঞ্চে

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এবার কি তবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন শিশির অধিকারী? এই জল্পনা এবং প্রশ্ন অনেক আগে থেকেই উঠছে। তবে এবার বেশ কয়েকটা ধাপ এগিয়ে উত্তর দিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শিশির অধিকারী। আগে এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলেও, এবার বললেন ‘মেজ ছেলের’ কথাই শেষ কথা।

পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভায় থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করে জল্পনা উস্কে দিলেন কাঁথির তৃণমূল সাংসদ। উনি যে শেষপর্যন্ত বিজেপিতেই যোগ দেবেন তা একপ্রকার ঠিকই ছিল। শুধু সময়ের অপেক্ষা। এমনটাই বলেছে তৃণমূল শিবির। উল্লেখ্য, তাঁর দুই ছেলে শুভেন্দু অধিকারী এবং সৌমেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাহলে এবার কি শিশির অধিকারী নিজেও যোগ দেবেন বিজেপিতে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে, বুধবার তেমনই ইঙ্গিত দিলেন কাঁথির তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী।

২৪ মার্চ, বুধবার কাঁথিতে নির্বাচনী সভা করবেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সভায় উপস্থিত থাকার ইঙ্গিত দিলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। এই একই ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁর ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি চন্ডীপুরের সভা থেকে বলেছেন, ‘শিশিরবাবু থাকবেন মোদির সভায়। আপেক্ষা করুন। আমি বলব আরও আগে যেতে। ২১ তারিখ এগরায় অমিত শাহের সভা আছে।’

উল্লেখ্য, আগেই শিশির অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, তাঁর কাছে ‘মেজ ছেলের’ কথাই শেষ কথা। এদিন তিনি সেই ‘মেজ ছেলের’ কথা টেনে বললেন, ‘ছেলে বললে নিশ্চয়ই যাব। আমাকে সুযোগ দিলে, না যাওয়ার তো কিছু নেই।’ এতে একপ্রকার এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, খুব শীঘ্রই শিশির অধিকারীও পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেবেন। অর্থাৎ গোটা পরিবারই যে এবার গেরুয়া শিবিরে আশ্রয় নিতে চলেছে সে বিষয় একপ্রকার পাকাই হয়ে গেল।

শিশির অধিকারী এখনও তৃণমূলের সাংসদ থাকলেও, এদিনও তিনি তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে পিছপা হননি। তিনি বলেন যে, ‘যে দিন থেকে শুভেন্দু বিজেপিতে গিয়েছে, সেই সময় থেকেই আমার বাপ-ঠাকুরদা-চোদ্দ পুরুষ তুলে গালাগালি করা হয়েছে। মীরজাফর, বেইমান বলা হচ্ছে! জানি না, আমরা কার খেয়েছি, কার ভোগ করেছি। যে যাই বলুক, মেদিনীপুরের লোক জানে আমরা ভোগী না ত্যাগী।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিশির অধিকারীর দীর্ঘদিনের ‘দাদা-বোনের’ সম্পর্ক যে কতোটা তিক্ততায় ভরে গেছে, তা শিশির অধিকারীর বক্তব্যেই স্পষ্ট হচ্ছে। শিশির অধিকারী তো নন্দীগ্রামে মমতার আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলেও অভিহিত করেছেন। এদিনও একই সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। তিনি বলেছেন যে, ‘যা করেছেন, তা বড় লজ্জার ব্যাপার। এটা জেলার পক্ষে লজ্জার। নন্দীগ্রামবাসীর পক্ষেও লজ্জার।’

অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে ছেলের লড়াইয়ে তিনি যে ছেলের দিকেই, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শিশির অধিকারী। তিনি বলেছেন, ‘ছেলে চাইলে ছেলের জন্য নামব। তবে শরীর পারমিট করবে না হয়তো।’ তা তিনি যাই বলুন, পদ্মশিবির যাত্রা এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। খুব শীঘ্রই যে শুভেন্দু অধিকারী এবং শিশির অধিকারীর কথার বাস্তব রুপায়ন ঘটবে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.