প্রতীক্ষার সমাপ্তি! আজই প্রকাশ পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার

প্রতীক্ষার সমাপ্তি! আজই প্রকাশ পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার
প্রতীক্ষার সমাপ্তি! আজই প্রকাশ পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার / ফাইল ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। অনেক বাধা অতিক্রম করে, অবশেষে আজই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বুধবার, ১৭ মার্চ বিকেলে প্রকাশিত হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তেহার। প্রচার শেষে কলকাতায় ফিরে, কালীঘাটে নিজ বাসভবন থেকেই মমতা বন্দ্যোধ্যায় প্রকাশ করবেন এই ইস্তেহার।

জানা গিয়েছে, গত দেড় মাস ধরেই এই ইস্তেহার তৈরির কাজ করছেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ জঙ্গলমহলের নির্বাচনী প্রচার শেষ করে, কলকাতায় ফিরেই প্রকাশ করবেন এই ইস্তেহার, তেমনটাই সূত্রের খবর। এবারের এই নির্বাচনী ইস্তেহারে চমক তো রয়েইছে। কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে একাধিক চমক রয়েছে এই ইস্তেহারে। বঙ্গবাসীর মন জয়ে ঢালাও প্রকল্পের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বড় চমক দুয়ারে রেশন। অন্য আর একটি বড় চমক হল তফশিলী জাতির জন্যে বিশেষ ঘোষণা। মন্ডল কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কিছু জনজাতিকে এই ইস্তেহারে মান্যতা দেওয়া হবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে ইস্তেহারে থাকতে চলেছে নয়া চমক।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রতিবারের মতো নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নীচুতলার কর্মী থেকে সাংসদ, বিধায়ক-সহ সকলের মতামত নিয়েছেন নেত্রী। আর তাঁদের সেই মতামতের ভিত্তিতেই তিনি একটি কমিটিও গঠন করেছিলেন। এই কমিটিই চূড়ান্ত ইস্তেহার তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায় নিজেও সেই কমিটিতে ছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, প্রতিবারই নির্বাচনী ইস্তেহার প্রস্তুত করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মতামত নেন। কোন বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত, বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণের মোকাবিলা কীভাবে করা হবে ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তিনি মতামত নিয়ে থাকেন দলের সদস্যদের থেকে। এরপরে সেই মতামতের উপর ভিত্তি করেই, ইস্তাহার তৈরি হয়।

তৃণমূল সূত্রে খবর, ইস্তাহারে বেশ কিছু বিষয়কে আলাদা করে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে দলের শীর্ষনেতৃত্ব। তার মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে রেশন দেওয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সমাজের সকল স্তরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলির আগামীতে আরও বিকাশ। এ ছাড়াও জোর দেওয়া হয়েছে শিল্প ও কর্মসংস্থানের মতো বিষয়গুলিতে। উল্লেখ্য, এই কমিটিতে মমতা বন্দোপাধ্যায় ছাড়াও একাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়ক ছিলেন।

২০২১-এ ফের রাজ্যের ক্ষমতা দখল তৃণমূলের এই মুহূর্তে সবথেকে বড় লক্ষ্য। ফলে ইস্তেহারে গুরুত্ব পাবে গত দশ বছরে তৃণমূলের ‘উন্নয়ন’-এর বিষয়গুলি। বিশেষত, নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নের কথা। বিজেপি-কে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে ধরে নিয়ে ‘বহিরাগত’ প্রসঙ্গ এবং ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা’র মতো বিষয়গুলিও ইস্তেহারে গুরুত্ব পেয়েছে বলে সূত্রের খবর।

দলীয় সূত্রে খবর, ইস্তেহার তৈরির কমিটির মতামতাকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি ইস্তাহারে স্থান পেয়েছে তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের সমীক্ষাও। প্রশান্তের সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। সেই সমীক্ষার ফলাফলও চূড়ান্ত ইস্তাহারে থাকছে বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। গত বিধানসভা ভোটে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির মধ্যে কোন কোনগুলি পুরোপুরি পূরণ করা হয়েছে, কোনগুলি পূরণ করা এখনও খানিকটা বাকি আছে তাও ইস্তেহারে বলা থাকবে বলেই তৃণমূল সূত্রের খবর।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.