নির্বাচনের আগে ‘দলত্যাগী’রা ফিরতে চাইছেন দলে! তাঁদের নিয়ে কী ভাবছে শাসকশিবির?

নির্বাচনের আগে ‘দলত্যাগী’রা ফিরতে চাইছেন দলে! তাঁদের নিয়ে কী ভাবছে শাসকশিবির?
নির্বাচনের আগে ‘দলত্যাগী’রা ফিরতে চাইছেন দলে! তাঁদের নিয়ে কী ভাবছে শাসকশিবির?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলায় একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জোড়া ফুল শিবির ছেড়ে অনেকেই পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। অনেক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক নাম লিখিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে। তবে, ভোটে বিজেপির বড় বিপর্যয়ের পরই, তাঁদের ঘোর কাটে। এখন তাঁরাই আবার ফিরতে চাইছেন দলে। ইতিমধ্যেই, তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন করেছেন সোনালী গুহ থেকে দীপেন্দু বিশ্বাস-সহ অনেকেই।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কী হবে এই ‘দলবদলু’দের ভবিষ্যৎ? আবারও কি তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে তৃণমূলে? সূত্রের খবর, এখনই সেই সম্ভবনা নেই বলেই জানাচ্ছে শাসকশিবির। সেই সম্ভবনা যথেষ্ট ক্ষীণ।

বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর, আজই প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে বসছে রাজ্যের শাসকশিবির। আজ দুপুর ২ টো নাগাদ ১৮ জনকে নিয়ে প্রথমে হবে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। এরপরই দুপুর ৩ টে থেকে শুরু হবে দলের সাংগঠনিক বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দলের সমস্ত সাংসদ, বিধায়ক, জেলা সভাপতিরা।

তৃণমূল সূত্রের খবর, আজই এই বৈঠকে ‘দলত্যাগী’দের দলে ফেরানো নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসক দলের একটা বড় অংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ‘দলত্যাগী’রা শুধুমাত্র যে দল ত্যাগ করেছেন তাই নয়, দলের বিরুদ্ধে কার্যত সমালোচনা করেছেন, বিষোদগার করেছেন। এখানেই শেষ নয়, দলের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করার সঙ্গে সঙ্গে দলের ক্ষতিও করেছেন বলে অভিযোগ। এখন দলের ভালো সময়ে তাঁদের ফের দলে ফিরিয়ে নিলে, যেসব কর্মীরা এতদিন দলের খারাপ সময়েও নিজেদের জীবন বাজি রেখে, লড়াই করেছেন ময়দান ছেড়ে যাননি, তাঁদের প্রতি অবিচার করা হবে, তাঁদের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তাই ‘দলবদলু’দের এখনই দলে ফেরানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বরং আরও কিছুদিন তাঁদের অপেক্ষায় রাখা প্রয়োজন।

এই প্রসঙ্গে সাংসদ সৌগত রায় দিন কয়েক আগেই সাফ জানিয়েছিলেন, আগামী ৬ মাস ‘দলবদলু’দের ফেরানো উচিত নয়। সূত্রের খবর, আজকের এই সাংগঠনিক বৈঠকে এই বিষয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এছাড়া আজকের বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর। যুব তৃণমূল থেকে তাঁকে মাদার তৃণমূলে আনা হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’-এর দায়িত্বও দেওয়া হতে পারে যুব সভাপতিকে। একই সঙ্গে আজ তৃণমূলে বড় সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে। আজকের পর থেকে শুরু হতে পারে এক ব্যক্তি এক পদ নীতি। অর্থাৎ যে সমস্ত মন্ত্রীরা জেলা সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তরুণ প্রজন্মকে সংগঠনের দায়িত্বে তুলে আনা হতে পারে।

আবার সামনেই রয়েছে পুরসভা ভোট। তারপর আবার পঞ্চায়েত ভোট। সেই জন্যই, আজকের বৈঠক থেকেই দলের বুথ স্তরের সংগঠনকে ফের ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিতে পারেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।