নন্দীগ্রাম নিয়ে কমিশনে নালিশ দায়ের তৃণমূল-বিজেপির

নন্দীগ্রাম নিয়ে কমিশনে নালিশ দায়ের তৃণমূল-বিজেপির
নন্দীগ্রাম নিয়ে কমিশনে নালিশ দায়ের তৃণমূল-বিজেপির

হেভিওয়েট প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই কার্যত হটস্পট কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্র নিয়েই এবার তৃণমূল বিজেপি দুই পক্ষের আরোপ প্রত্যারোপের ঝর আছড়ে পড়ছে কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। একুশের নির্বাচনে কেউ কাউকে এক চুল জমি ছাড়তে নারাজ। হামলা হচ্ছে দুই দলের কর্মী ও নেতৃত্বের ওপর। আর তাই নিয়ে বৃহস্পতিবার কমিশনের দ্বারস্থ হয়ে ছিল দুই রাজনৈতিক দল তৃণমূল বিজেপি। এদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানতে এসেছিলেন ডেরেক ও ব্রায়ান ও শশী পাঁজা। অন্য দিকে বিজেপির পক্ষ থেকে সাংসদ অর্জুন সিং ও রাজ্য নির্বাচনী কমিটির সদস্য শিশির কুমার বাজরিয়া।

প্রথমে এদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয় বৃহস্পতিবার রাতে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা চালন হয়। তিন তৃণমূল কর্মী জখম হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন অঞ্চল স্তরের নেতাও ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলার ঘটনায় জড়িতয যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজেপি। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা জানিয়েছেন তাঁরা দলীয় কর্মসূচি সেরে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালান হয়। গাড়িতে রীতিমত ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়দের দাবি দুটি বাইকে করেই এসেছিল দুষ্কৃতিরা। তৃণমূল কর্মীদের গাড়ি আটকে চলে তাণ্ডব। এক কর্মী হাতে চোট পয়েছে। অন্যজনের মাথায় লেগেছে। যদিও বিজেপি পুরো অভিযোগই অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে এদিন প্রচারে গিয়ে তৃণমূলের প্রমিলা বাহিনীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। টা নিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি। এদিন সন্ধ্যায় বিজেপির এক প্রতিনিধি দল কমিশনে কাছে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও শাসক দলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ জানান। তাদের বক্তব্য এমনটা চলতে থাকলে কোনভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েও সুস্থ ভোট করানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে ভাতার কথা বলে নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন করেছে বলেও তারা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানায়।

উল্লেখ্য, এদিন ভেটুরিয়ায় শুভেন্দুর কনভয় আটকে ঝাঁটা জুতো নিয়ে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। যদিও বিজেপি দাবি করেছে এটা তৃণমূলের কারসাজি। বিজেপির দাবি একটা সময় সিপিএম শুভেন্দুকে আটকাতে চেয়েছিল। এখন চাইছে তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারীকে এভাবে আটকানো যাবে বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং এর বাড়ির সামনে ব্যাপক বোমাবাজি চলে। সে সময় অর্জুন সিং এক বেসরকারি সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষ্টকার দিচ্ছিলেন। অথচ পুলিশ তার বিরুদ্ধেই সুও মো টো মামলা রুজু করেছে। আসল অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অর্জুন সিং এদিন অভিযোগ করেন প্রকৃত দোষীদের পুলিশ আড়াল করছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.